নিখুঁত ও বাস্তবানুগ পরিকল্পনা যেকোনো কাজ সুসম্পন্নের অর্ধেক।

কারো কাছে গেলে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে বিদায় নেবো। তার অসুবিধা হতে পারে বা তার কাজের ক্ষতি হতে পারে এত সময় থাকবো না।

দেহের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আত্মার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আত্মার শক্তি প্রয়োগ করে আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছবো।

সৎ ও শ্রমলব্ধ উপার্জনের উৎস হলে কোনো কাজকেই হেয় মনে করবেন না।

বিশ্বাস করার আগে আমি সময় নেবো, যাচাই-বাছাই করবো। যখন বিশ্বাস করবো, পুরোপুরি করবো।

অন্যের এমন সব দোষত্রুটি দেখা ও বলা থেকে বিরত থাকো, যা তোমার মধ্যেও আছে।

আপনার পছন্দনীয় চাকরিকে ঘিরে মনছবি দেখুন। বিশ্বাস করুন, একটি সুন্দর চাকরি আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। তারপর খুঁজে বের করুন- কোথায় তা লুকিয়ে আছে।

যেকোনো অনুষ্ঠান চলাকালে সবসময় মোবাইল ফোন বন্ধ রাখবো।

হরর, ভায়োলেন্স, পরকীয়াপূর্ণ টিভি সিরিয়াল ও মুভি দেখবেন না (বিশেষত ঘুমানোর ৩/৪ ঘণ্টা আগে)। এগুলো স্নায়বিক উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা, অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন ও হার্ট এটাকের কারণ হতে পারে।

হে করুণাময়! দুঃখীর দুঃখ দূর করা, অসুস্থকে নিরাময় করা, মজলুমের কষ্ট মোচন করা, অভাবকে প্রাচুর্যে রূপান্তরিত করা, মানুষের জীবনকে মমতায় ভরিয়ে দেয়া আর পরিপূর্ণভাবে নিজেকে চেনার সঠিক পথে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাও। মহাজীবনের সহজ স্বাভাবিক ধারায় মহামানবের পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি আমাকে দাও। আমার মেধাকে পুরোপুরি বিকশিত কর। আমার ভেতরে সুপ্ত অনন্য মানুষকে- ইনসানে কামেলকে জাগিয়ে দাও।

খাওয়ার পর কমপক্ষে ১০ মিনিট বজ্রাসনে বসুন। এতে হজমশক্তি বাড়বে।

কিনতে অনাগ্রহী হয়ে ক্রেতা দোকান থেকে বেরিয়ে গেলে পিছু পিছু ডাকবেন না। আশপাশের বিক্রেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে ব্যঙ্গোক্তিও করবেন না।

সত্য অন্তরে লুকিয়ে থাকে। তাই সত্যের সন্ধানে ভবঘুরের মতো ঘুরে কোনো লাভ নেই। আমি আমার অন্তরেই সত্যকে খোঁজ করবো।

প্রভু হে! তুমি সকল ক্ষমতার মালিক। তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান কর। যাকে ইচ্ছা ক্ষমতাচ্যুত কর। তুমি সৎ বিচক্ষণ দেশপ্রেমিক নেতৃত্বকে ক্ষমতা দাও। তুমি মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান আদিবাসী পাহাড়ি ধনী গরিব দল মত নির্বিশেষে সবার মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে দাও। আমাদের মেধাকে বিকশিত কর। জ্ঞান দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে কর অনন্য। সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যে ভরিয়ে দাও আমাদের জীবন। আমাদের উন্নীত কর মানবিক মহাসমাজে, বিশ্বকে নেতৃত্ব দানকারী নৈতিক মহাশক্তিতে। তুমি সর্বশক্তিমান! ক্ষমতানিধান! দয়াময়! মেহেরবান!

বাথরুম ও টয়লেট এমনভাবে ব্যবহার করুন যেন তা অন্যদের ব্যবহারের উপযোগী থাকে।

সম্প্রতি তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার করুন।

যেকোনো ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার জন্যে আমি সবসময় সরাসরি কথা বলবো।

নিজ দায়িত্বে পরিবেশিত খাবার বেড়ে নিন। তবে নিজের জন্যে খাবারের সবচেয়ে বড় অংশ নেয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকুন।

সুযোগ পেলেই আমি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবো। তাদের স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করবো।

সকল ভয়ই মৃত্যুভয়ের প্রকাশ্য ছদ্মাবরণ। পরিবর্তনকে ভয় পাই বলেই আমরা ভয় দ্বারা আক্রান্ত হই।

ভয় ও আতঙ্ক দূর হয়ে কোয়ান্টা স্পন্দনে পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই সুস্থতার সূচনা হয়।

আমার মেধাকে আমি সেবায় রূপান্তরিত করবো। সেবানন্দ আমার অর্জনকে রূপান্তরিত করবে সম্পদে।

নিখুঁত ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা কাজ সুসম্পন্নের অর্ধেক। আমি সুপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করবো।

হে মহাজ্ঞানী! সর্বশক্তি নিয়ামক! মনকে সর্বাবস্থায় নিয়ন্ত্রণে রাখার শক্তি আমাকে দাও। লেখাপড়া ও কল্যাণকর কাজে অখন্ড মনোযোগী করে দাও। প্রয়োজনীয় সবকিছু স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনে রাখা এবং তা নিজের ও সৃষ্টির কল্যাণে কাজে লাগানোর তওফিক দাও।

কর্মস্থলে প্রতিযোগীকে আমি সবসময় শ্রদ্ধা করবো। শক্তিশালী প্রতিযোগী আমার মেধার বিকাশে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

জীবিকাকেই জীবন মনে করবেন না। জীবনধারণের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জনের একটি উৎস হচ্ছে জীবিকা।

বোকা বন্ধু শেষ পর্যন্ত অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়। আমি আহাম্মকদের কাছ থেকে সবসময় দূরে থাকবো।

ভালো কাজ সবসময় কর। বার বার কর। মনকে সবসময় ভালো কাজে নিমগ্ন রাখো। সদাচরণই স্বর্গসুখের পথ।

কোনো লোভ-লালসা, কামনা-বাসনার বশবর্তী না হয়ে শুধু স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই প্রতিটি কাজ করবো। আমি আমার অর্জিত সাফল্যকে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত করবো।

স্বর্গীয় জ্যোতি ও আনন্দ উপলব্ধির প্রতীক ‘ওম’ স্থাপিত হোক তোমার হৃদয়ে অনন্তকালের জন্যে।

চাকরিতে নিজেকে কখনোই বিক্রি করবেন না। নীতিগত বিরোধে চাকরি পরিবর্তনেও মনে কোনো দ্বিধা রাখবেন না।

খুব জরুরি না হলে খাওয়া ও বিশ্রামের সময় কারো সঙ্গে দেখা করতে যাবেন না।

আমার স্মৃতি অত্যন্ত নিখুঁত। তাই যখন যা প্রয়োজন তখন তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনে করতে পারবো।

বিশেষ দায়িত্ব বা নির্দিষ্ট বিরতির সময় ছাড়া অফিসের বাইরে যাওয়া। কোথাও গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা।

অযৌক্তিক দাম শুনে ধমকে না উঠে আপনার বাজেটের মধ্যে আনার চেষ্টা করুন, নয়তো অন্য দোকানে দেখুন।

সাফল্য বিঘ্নকারী কোনো সম্পর্ক আমার প্রয়োজন নেই। নেতিবাচক, অলস, অসদাচারী ও লক্ষ্যহীন সহপাঠী থেকে আমি দূরে থাকবো।

ভালো কথা বলার সুযোগ না থাকলে নীরব থাকুন। আর উৎসাহব্যঞ্জক কিছু বলার সুযোগ থাকলে নির্দ্বিধায় বলুন।

ভাড়াবাড়িকে নিজের বাড়ির মতো যত্ন করুন, পরিচ্ছন্ন রাখুন। জানালা দিয়ে ময়লা ফেলবেন না।

সঠিক সিদ্ধান্ত ও সুন্দর পছন্দের জন্যে আমি আমার প্রজ্ঞাকে ব্যবহার করবো।

রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী। রক্তদান করার সাথে সাথে শরীরের মধ্যে অবস্থিত ‘বোন ম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্যে উদ্দীপ্ত হয়। নিয়মিত রক্তদান হৃদরোগ ও হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।

নিয়মিত মেডিটেশন চিন্তাকে শাণিত, সিদ্ধান্তকে সঠিক ও বক্তব্য প্রকাশকে স্বতঃস্ফূর্ত করে। আমি নিয়মিত মেডিটেশন করবো।

পরীক্ষা চলাকালে আমি প্রশান্ত মনে আত্মপ্রত্যয়ের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের দ্রুত সঠিক উত্তর লিখবো। পরীক্ষার সময় অনায়াসে আমি আমার মেধার চমৎকার প্রয়োগ করবো।

নিজের কর্মক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে বেশি করে ভাবুন। আপনি যা যা পারেন তার তালিকা তৈরি করুন। গুণগুলো যত বিকশিত হবে সীমাবদ্ধতাকে তত অতিক্রম করতে পারবেন।

নিজের পরিবর্তন না এনে আমরা অন্যের পরিবর্তন দেখতে চাই। তাই আমাদের সত্যিকার পরিবর্তন আসে না।

আগেই পুরো বেতন অগ্রিম প্রদান করবেন না। তার টাকার প্রয়োজন হলে কাজের অনুপাতে প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করুন।

বিশ্বাস থেকে বিচ্যুতির প্রথম ধাপই হলো সংশয়। আমি আমার বিশ্বাসকে সংশয়মুক্ত রাখবো।

তাদের যুক্তিসঙ্গত যেকোনো ইচ্ছাপূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।

লোভ হচ্ছে কঠিনতম রোগ, সংস্কার চরম দুঃখ, সুস্বাস্থ্য পরম লাভ, সন্তুষ্টি পরম ধন, বিশ্বাসই পরম বন্ধু, নির্বাণ পরম সুখ।

আমি প্রো-একটিভ। হতাশা, নেতিবাচক চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখবো। কোনো ক্ষোভ ও ঘৃণা যাতে আমার সিদ্ধান্ত ও কাজকে প্রভাবিত না করে সে ব্যাপারে সবসময় সজাগ থাকবো।

মানুষের অধিকার শুধু কর্মে। ফলে তার অধিকার নাই। কাজ কর। নিজেকে কর্মফলের কারক মনে করো না। আবার নিজেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে দিও না।

মেডিটেশন শিখুন

মেডিটেশন কী?

মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা। মনের জট যায় খুলে। সৃষ্টি হয় আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয়। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটে অন্তর্জাগৃতি।

কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন

প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্নতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। আর অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু।



100 Benefits

কিছু সাধারণ প্রশ্ন

  • মেডিটেশন কী? কেন মেডিটেশন করা প্রয়োজন?

    মেডিটেশন হলো সচেতনভাবে দেহ মন এবং মস্তিষ্ককে শিথিল করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক এবং সহজ প্রক্রিয়া। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিককে প্রশান্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতনভাবে দেহ-মনে সুখানুভূতি তৈরি এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে, পেতে পারি সহজ সাফল্য। অর্থাৎ শারীরিক মানসিক বৈষয়িক প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তিতে থাকার জন্যে, মেডিটেশন হচ্ছে দেহমনে সে অবস্থা সৃষ্টির একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
    যেমন, টেনশন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো টেনশনমুক্তি। বলা হয় টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না। আর শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আর আমরা এখন জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ যেমন মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বা হলে নিরাময় হতে পারবেন। আর অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ ও সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবন-দৃষ্টি এবং মেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করার মাধ্যমে শিখবেন অখণ্ড মনোযোগ ও অল্পসময়ে পড়া আয়ত্ত করার টেকনিক। একজন গৃহিণী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করে পাবেন সুখী পারিবারিক জীবন যাপনের আনন্দ। একজন পেশাজীবী হয়ে সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে আপনি নিতে পারবেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আর একজন সফল মানুষ হওয়ার জন্যে মেডিটেশনে মনছবি চর্চা করে আপনি আপনার জীবনের যেকোনো চাওয়াকে পরিণত করতে পারেন স্বতঃস্ফূর্ত পাওয়ায়।
    আর ইবাদত উপাসনায় একাগ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক আধ্যাত্মিকভাবে আপনি অগ্রসর হতে পারেন ধ্যানের পথ ধরে। এভাবে একটি প্রশান্ত মন, সুস্থ জীবন ও কর্মব্যস্ত সুখী জীবন যাপনের জন্যেই আপনার প্রয়োজন মেডিটেশন করা।

  • আমি কীভাবে মেডিটেশন করতে পারি?

    খুব সাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে আপনি অনায়াসেই হারিয়ে যেতে পারেন মেডিটেশনের গভীরে। ধ্যানের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন দেহের স্বাস্থ্য উদ্ধারে, মেধার বিকাশে, সম্ভাব্য সংকট নিরসনে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, চেতনার অভ্রভেদী বিস্তারে।
    মেডিটেশনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে আপনাকে বেছে নিতে হবে একটা শান্ত নিরিবিলি জায়গা যেখানে কিছুক্ষণ সময় আপনি নিজের মতো করে কাটাতে পারবেন। প্রথমেই সহজভাবে বসুন। যেভাবে বসতে আপনি আরামবোধ করেন। এটা আপনি মেঝেতে বা বিছানায় বসতে পারেন বা পারেন চেয়ারে বসতে।
    শুরু করার আগে আপনার যেকোনো একটি আনন্দের ঘটনা বা স্মৃতিকে মনে করুন। মনে নিয়ে আসুন একটা আনন্দভাব।
    এবার হালকাভাবে চোখ বন্ধ করুন। চোখের দুই পাতাকে ধীরে ধীরে জোড়া লেগে যেতে দিন। এবার নাক দিয়ে লম্বা দম নিন। আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। দম নিতে নিতে আপনি ভাবতে পারেন প্রকৃতি থেকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি আপনার শরীরে প্রবেশ করছে। আর দম ছাড়তে ছাড়তে ভাবতে পারেন শরীরের সকল দূষিত পদার্থ বাতাসের সাথে বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার কিছুক্ষণ ধীরে ধীরে নাক দিয়ে দম নিন, ধীরে ধীরে নাক দিয়ে ছাড়ুন। এবার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন দমের ওপর। মনের চোখে কল্পনা করুন বাতাস কীভাবে নাক দিয়ে ঢুকছে, নাক দিয়ে বেরুচ্ছে। বাতাস স্বাভাবিকভাবে যাওয়া-আসা করুক। আপনি শুধু দমের প্রতি মনোযোগ দিন। এভাবে কিছুক্ষণ দম নেয়া এবং দম ছাড়ার পর আপনি অনুভব করবেন যে আপনার শরীর শিথিল হয়ে আসছে।
    এখন আপনি কল্পনা করুন একটা চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ যেটাকে কল্পনা করলেই আপনার মন প্রশান্তি/ আনন্দে ভরে উঠবে। এটাকে বলা যেতে পারে আপনার মনের বাড়ি। যে স্তরে মনের যেকোনো কল্যাণমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্রেনকে আপনি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবেন। যেমন- মনে মনে বলতে পারেন, এখন থেকে আমার স্মৃতিশক্তি বাড়বে। আত্মবিশ্বাস ও সাহস বাড়বে। আমার মনোযোগ বাড়বে। শরীর ও মন সবসময় সুস্থ থাকবে।
    এবার জেগে ওঠার পালা। কিছুসময়- এটা ১০/ ১৫ বা ২০ মিনিটও হতে পারে-মনের এক চমৎকার প্রশান্ত অবস্থায় কাটিয়ে আপনি মেডিটেশন থেকে বাস্তবে ফিরে আসবেন।

  • মেডিটেশন কি শুধু আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির জন্যেই?

    হাজার বছর ধরে আমাদের এই উপমহাদেশে ধ্যান মোরাকাবা বা মেডিটেশন চর্চা হয়েছে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্যে। ফলে তখন মেডিটেশন সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হতে পারে নি। কোয়ান্টাম মেথডে হাজার বছরের সেই শাশ্বত চর্চাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ উপযোগী করে পার্থিব জীবনকে সুন্দর করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ব্যস্ত মানুষ মেডিটেশন চর্চা করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই শাশ্বত উপকার লাভ করতে পারে।
    সারা বিশ্বে আজ মেডিটেশনকে মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা, মেধার বিকাশের মাধ্যমে পেশাগত সাফল্য লাভের জন্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকায় মেডিটেশন চর্চা করা হচ্ছে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল ধারা হিসেবে। উন্নত দেশগুলোতে শিল্প বাণিজ্য অর্থনীতি ক্ষেত্রে মেডিটেশন চর্চা করা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।
    আর কোয়ান্টাম মেথডের মাধ্যমে মেডিটেশন চর্চায় আরো দুটি মাত্রায় উপকৃত হওয়া যায়, তাহলো পারিবারিক সমৃদ্ধি ও আত্মিক পরিশুদ্ধি। সুতরাং এভাবে মেডিটেশন শুধু আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির জন্যেই নয় বরং আধুনিক মানুষের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা, বৈষয়িক সাফল্য, পারিবারিক সমৃদ্ধি অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যে সমৃদ্ধ এক উপভোগ্য জীবন প্রাপ্তির জন্যেই মেডিটেশন।

  • মেডিটেশন শেখা কি খুব কঠিন? নিয়মিত প্র্যাকটিস কতটা সহজ?

    মেডিটেশন করা খুব সহজ। কোয়ান্টাম মেথডে আপনি খুব সহজে শরীর মনের শিথিলায়নের মাধ্যমে মেডিটেশনের লেভেলে পৌঁছে যেতে পারেন। এ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্যে বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নাই। বাংলা ভাষা বুঝতে পারলে এবং চেয়ারে বসে থাকার মতো শারীরিক যোগ্যতা থাকলেই হলো। নয় বছর থেকে নব্বই বছরের যে কেউ এ কোর্সে অংশ নিতে পারেন এবং একই রকমভাবে শিখতে পারেন, উপকৃত হতে পারেন এবং উপভোগ করতে পারেন। এ কোর্সে এত সহজে আপনি মেডিটেশন শিখতে পারবেন যে, দৈনন্দিন জীবনে খাওয়া ঘুমানোর মতোই মেডিটেশন আপনার প্রাত্যহিক কাজের অংশ হয়ে যাবে। ফলে নিয়মিত মেডিটেশন করা আপনার অজান্তেই পরিণত হবে আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য সুঅভ্যাসে।
    তবে আপনি যদি কোয়ান্টাম মেথড কোর্সে এখনো অংশ না নিয়ে থাকেন তাহলেও আপনি মেডিটেশন করতে পারবেন। আপনি আজই শুরু করতে পারেন। ওয়েবসাইট থেকে মেডিটেশন ডাউনলোড করে এক্ষুণি বসে যান। ধাপে ধাপে ধীরে ধীরে আপনি প্রবেশ করবেন এক অপার্থিব শান্তির জগতে। আর নিজেকে আবিষ্কার করবেন প্রশান্তি সুস্বাস্থ্য সাফল্যের পথে হাজারো সহযাত্রীর একজন হিসেবে।

  • মেডিটেশন করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

    মেডিটেশনের উপকার এক কথায় বলতে গেলে বহুমুখী ও বিবিধ। নিয়মিত মেডিটেশন করার ফলে আপনার জীবন হবে আরো সহজ, আরো সুন্দর, আরো উপভোগ্য। আপনি পাবেন সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। মেডিটেশন চর্চা করে আপনি কতভাবে উপকৃত হতে পারেন তার একটি তালিকা সংক্ষিপ্ত তালিকা এখানে সংযুক্ত হলো। কোয়ান্টাম মেথডের শত উপকার



মেডিটেশন-ধর্মের আলোকে

মেডিটেশন - বিজ্ঞানের চোখে

Science Sayআমরা জানি বিশ্রাম, তন্দ্রা বা নিদ্রাকালীন সময়ে অবচেতন মন সবচেয়ে সৃজনশীল থাকে ও... বিস্তারিত পড়ুন

Throughout Image
Celebrities Image

Warning: Do not remove form Invisible region.

by Tazim.