‘এ পোশাকে তোমাকে মানাচ্ছে না’- অন্যদের সামনে এ ধরনের কথা বলে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।

নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়। এবং বলে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এ সব অনর্থক সৃষ্টি কর নি। তুমি মহাপবিত্র! আগুনের শাস্তি থেকে তুমি আমাদের রক্ষা কর।’ -

জীবনে আমি হবো লাখো মানুষের ভরসাস্থল। মরণেও তারা হৃদয়ের অশ্রুতে শেষ বিদায় জানাবে আমাকে। তারপরও প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে বেঁচে থাকবো আমি তাদের আনন্দে বেদনায় সংকটে সম্ভাবনায় প্রেরণার উৎসরূপে।

বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও মমতা- এ তিনটিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। এর মধ্যে মমতাই সবচেয়ে মহৎ।

গভীর শিথিলায়ন দেহে ব্যথার অনুভূতি কমায় আর সুস্থ হওয়ার একাগ্র মনছবি নিরাময় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। তাই রোগমুক্তির জন্যে প্রতিদিন দুবার নিরাময়ের মেডিটেশন করবো।

ব্যস্ততা দুশ্চিন্তা দূর করে। আমি সবসময় ভালো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখবো।

দাওয়া দোয়া ও দান- নিরাময়ের জন্যে আমি এ তিনের সমন্বয় করবো।

চারপাশের মানুষের প্রাপ্তির সাথে নিজের প্রাপ্তির তুলনা না-শুকরিয়ার প্রধান কারণ। তুলনা নয়, সুখী হওয়ার জন্যে আমি তাকাবো আমার অন্তরে।

আত্মকেন্দ্রিকতা ও ‘আমারটা আগে’ এ দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে এক ক্লান্তিকর বোঝায় পরিণত করে। আর বিনয়, সহানুভূতি ও উপকার যত ক্ষুদ্রই হোক জীবনকে প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল করে তোলে।

জীবন থেকে সত্যকে শিখুন। আর বাস্তব অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো সত্যই নিজস্ব হয় না।

প্রতিদিন আমি নিঃস্বার্থ সেবার পরিমাণ বাড়াতে থাকবো। সৃষ্টির সেবার মধ্য দিয়েই আমি স্রষ্টার কাছে পৌঁছবো।

ব্যাংকের কাউন্টার, বাসে বা লিফটে ওঠার জন্যে নির্ধারিত লাইনে দাঁড়ান।

প্রো-একটিভ ব্যক্তি যেকোনো পরিস্থিতিতে সবসময় ঠাণ্ডা মাথায় নিজস্ব মূল্যবোধের আলোকে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেন। আমি সবসময় প্রো-একটিভ থাকবো।

স্পর্শকাতর বা উত্তেজক কোনো প্রশ্নের উত্তরে শান্ত থাকুন। স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে উত্তর দিন।

অনুষ্ঠানের আগে ও পরে নিজেরা মিলে পরিকল্পনা ও পর্যালোচনা বৈঠক করুন।

হাজার মাইলের অভিযাত্রাও শুরু হয় একটি ছোট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। আমার যা আছে তা নিয়ে যেখানে আছি সেখান থেকেই শুরু করবো। আমি গন্তব্যে পৌঁছবো।

ব্যয় বহনে অসমর্থ রোগীকে ন্যূনতম চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করবেন না।

নীরব কাজ সবচেয়ে সফল প্রচারক।

ইতিহাসে তারাই কালজয়ী হয়েছেন যারা পূর্ব পুরুষের প্রচলিত ভ্রান্ত সংস্কার ও আচরণ-অভ্যাসের ক্ষুদ্র বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন।

আমরা খ্যাতিমান হতে চাই। কিন্তু খ্যাতির জন্যে নীরব সাধনা ও প্রয়োজনীয় কষ্ট স্বীকার করি না। ফলে সাধনাও হয় না, খ্যাতির শীর্ষেও পৌঁছতে পারি না।

হে মহামহান! সর্বশক্তিমান! সকল শয়তানি চিন্তা ও অপসংস্কৃতির কুপ্রভাব থেকে আমার ইন্দ্রিয়, মেধা ও মননকে তুমি হেফাজত কর। ইন্দ্রিয় ও প্রবৃত্তির ওপর আমার সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখো। প্রভু হে! তুমি মহাপবিত্র! সকল সৃজনশীলতার উৎস! তোমার পবিত্রতার ছায়ায় আমার মেধা মনন ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত কর। আমিন!

আমি সবসময় ধীর-স্থির ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবো।কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলেও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করবো।

উষ্ণ হৃদয় ও ঠান্ডা মস্তিষ্কের সম্মিলনেই সাধারণ মানুষ অনন্য মানুষে রূপান্তরিত হয়।

পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্বধারণা থেকে নয়, তার বক্তব্য থেকেই তার সমস্যা বোঝার চেষ্টা করবো। পরামর্শগ্রহীতার আগ্রহ বুঝে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবো।

কারো মানসিক রোগ নিয়ে ব্যঙ্গ-উপহাস করবেন না।

হাসিমুখে সবিনয়ে শুদ্ধভাবে সালাম দিন।

বিদ্যা বা জ্ঞান মানুষকে মানুষ বানায়। আর অবিদ্যা বা অপজ্ঞান মানুষকে হয় দানব, না হয় দাসে পরিণত করে।

আত্মবিকাশের অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। তা আদায় করে নিতে হয়। আমার অধিকার আমি আদায় করে নেবো।

আমি সবসময় যুক্তিসঙ্গত কথা বলবো। আমার যুক্তিসঙ্গত কথা সহজেই অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।

কারো চেহারা, গায়ের রং, গড়ন নিয়ে মন্তব্য করে তাকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।

যিনি অস্থিরচিত্ত, যিনি সত্যধর্ম অবগত নন, যার মানসিক প্রসন্নতা নেই, তিনি কখনো প্রাজ্ঞ হতে পারেন না।

পেশাজীবনের লক্ষ্যকে বড় রাখুন। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ ক্ষুদ্র হলেও তা দিয়েই যাত্রা শুরু করুন।

তোমরা নিজেদের ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না।

গতির নাম জীবন। প্রো-অ্যাকটিভ কাজের মধ্য দিয়ে আমি আমার এই গতিকে বেগবান করবো।

সত্যিকারের সাহায্য আসে নিজের অন্তর থেকে। আমার অন্তরই আমাকে সবসময় সাহায্য করবে।

আমি কসমিক ট্রাভেলার- মহাজাগতিক মুসাফির। আমার জন্ম নেই, মৃত্যু নেই। কিছু সময়ের জন্যে পৃথিবী পরিভ্রমণ করছি মাত্র। এই ভ্রমণ শেষে শুরু করবো আরেক ভ্রমণ।

নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। কাজের প্রতি বিশ্বস্ত থাকুন। কাজই হোক আপনার প্রেম।

সাবধান! তোমরা লোক দেখানো ধর্ম-কর্ম করো না। কারণ এর জন্যে স্বর্গে কোনো পুরস্কার পাবে না।

ডিসপ্লে থেকে কোনো কিছু নিয়ে দেখলে তা আবার যথাস্থানে রাখুন।

এমনভাবে নামাজ পড় যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। কারণ তুমি যদি দেখতে না-ও পাও, নিশ্চিতই তিনি তোমাকে দেখছেন। এটাই ইহসান বা সর্বোত্তম কল্যাণ।

বিনা অনুমতিতে কারো জিনিস ধরা, ব্যবহার বা অপসারণ করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকুন।

অর্থহীন শব্দমালার সহস্র বাক্যের চেয়ে মন প্রশান্তকারী একটি অর্থবহ বাক্য উত্তম।

মতের অমিল হলেও তর্ক করবেন না। শান্তভাবে নিজের অভিমতকে তুলে ধরুন।

মানবিকতা আমার সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দৈনন্দিন কাজে আমি মানবিকতারই প্রকাশ ঘটাবো।

একশত ভাগ নিখুঁত কর্মসম্পাদনকারী হতে যাবেন না।

সময়ানুবর্তী হয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সুনির্দিষ্ট কল্যাণকর ও ফলপ্রসূ কাজ না করাই হচ্ছে আলস্য। সফলদের উত্থান হয় কাজের মধ্য দিয়ে, আর ব্যর্থতা ও পতন আসে আয়েশ ও আলস্যের পথ ধরে।

জীবনের লক্ষ্যকে পরিষ্কার রাখুন। সবসময় বিশ্বাস করুন- বড় কিছু করার জন্যে আপনি পৃথিবীতে এসেছেন। বিশ্বাসের আলোকে কর্মপন্থা রচনা করুন। ঝর্নার গতিময়তায় কাজ করুন। সাফল্য আপনার পদচুম্বন করবেই।

নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব।

নিজে সুশৃঙ্খল না হলে অন্যকে সুশৃঙ্খল করা যায় না। আমি সুশৃঙ্খল হয়েই অন্যদের জীবনকে সুশৃঙ্খল করবো।

স্রষ্টার ইচ্ছাকেই আমি আমার জীবনের ইচ্ছায় রূপান্তরিত করবো। এটিই আমার পরিত্রাণের নিশ্চয়তা।

মেডিটেশন শিখুন

মেডিটেশন কী?

মেডিটেশন হচ্ছে মনের ব্যায়াম। নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন বাড়ায় মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা। মনের জট যায় খুলে। সৃষ্টি হয় আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। হতাশা ও নেতিবাচকতা দূর হয়। প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঘটে অন্তর্জাগৃতি।

কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন

প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌঁছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়। গভীর আত্মনিমগ্নতা আত্মশক্তির জাগরণ ঘটায় ভেতর থেকেই। আর অন্তরের জাগরণ বদলে দেয় জীবনের বাকি সবকিছু।



100 Benefits

কিছু সাধারণ প্রশ্ন

  • মেডিটেশন কী? কেন মেডিটেশন করা প্রয়োজন?

    মেডিটেশন হলো সচেতনভাবে দেহ মন এবং মস্তিষ্ককে শিথিল করার আধুনিক বৈজ্ঞানিক এবং সহজ প্রক্রিয়া। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরকে শিথিল এবং মন ও মস্তিককে প্রশান্ত করতে পারি। ফলে টেনশন অস্থিরতা মুক্ত হয়ে আমরা সচেতনভাবে দেহ-মনে সুখানুভূতি তৈরি এবং সবসময় তা উপভোগ করতে পারি। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজ করতে পারি আনন্দ নিয়ে, পেতে পারি সহজ সাফল্য। অর্থাৎ শারীরিক মানসিক বৈষয়িক প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশান্তিতে থাকার জন্যে, মেডিটেশন হচ্ছে দেহমনে সে অবস্থা সৃষ্টির একটি সহজ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
    যেমন, টেনশন। মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো টেনশনমুক্তি। বলা হয় টেনশন ও শিথিলায়ন একসাথে থাকতে পারে না। যে শরীরে টেনশন থাকে, সে শরীরে শিথিলায়ন থাকে না। আর শিথিল হলে টেনশন পালিয়ে যায়। আর আমরা এখন জানি, মনোদৈহিক ৭৫ ভাগ রোগের কারণই টেনশন। তাই মেডিটেশন করলে আপনি অনায়াসেই শতকরা ৭৫ ভাগ মনোদৈহিক রোগ যেমন মাইগ্রেন, সাইনুসাইটিস, ঘাড়ে-পিঠে-কোমরে বা শরীরের যেকোনো স্থানে দীর্ঘদিনের ব্যথা, হজমের সমস্যা, আইবিএস, এসিডিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা প্রভৃতি রোগগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। বা হলে নিরাময় হতে পারবেন। আর অন্যান্য রোগ নিরাময়েও ওষুধ ও সার্জারির পাশাপাশি সুস্থ জীবন-দৃষ্টি এবং মেডিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
    একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করার মাধ্যমে শিখবেন অখণ্ড মনোযোগ ও অল্পসময়ে পড়া আয়ত্ত করার টেকনিক। একজন গৃহিণী হিসেবে আপনি মেডিটেশন করে পাবেন সুখী পারিবারিক জীবন যাপনের আনন্দ। একজন পেশাজীবী হয়ে সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে আপনি নিতে পারবেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। আর একজন সফল মানুষ হওয়ার জন্যে মেডিটেশনে মনছবি চর্চা করে আপনি আপনার জীবনের যেকোনো চাওয়াকে পরিণত করতে পারেন স্বতঃস্ফূর্ত পাওয়ায়।
    আর ইবাদত উপাসনায় একাগ্রতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক আধ্যাত্মিকভাবে আপনি অগ্রসর হতে পারেন ধ্যানের পথ ধরে। এভাবে একটি প্রশান্ত মন, সুস্থ জীবন ও কর্মব্যস্ত সুখী জীবন যাপনের জন্যেই আপনার প্রয়োজন মেডিটেশন করা।

  • আমি কীভাবে মেডিটেশন করতে পারি?

    খুব সাধারণ কিছু নিয়ম অনুসরণ করে আপনি অনায়াসেই হারিয়ে যেতে পারেন মেডিটেশনের গভীরে। ধ্যানের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারেন দেহের স্বাস্থ্য উদ্ধারে, মেধার বিকাশে, সম্ভাব্য সংকট নিরসনে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, চেতনার অভ্রভেদী বিস্তারে।
    মেডিটেশনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে আপনাকে বেছে নিতে হবে একটা শান্ত নিরিবিলি জায়গা যেখানে কিছুক্ষণ সময় আপনি নিজের মতো করে কাটাতে পারবেন। প্রথমেই সহজভাবে বসুন। যেভাবে বসতে আপনি আরামবোধ করেন। এটা আপনি মেঝেতে বা বিছানায় বসতে পারেন বা পারেন চেয়ারে বসতে।
    শুরু করার আগে আপনার যেকোনো একটি আনন্দের ঘটনা বা স্মৃতিকে মনে করুন। মনে নিয়ে আসুন একটা আনন্দভাব।
    এবার হালকাভাবে চোখ বন্ধ করুন। চোখের দুই পাতাকে ধীরে ধীরে জোড়া লেগে যেতে দিন। এবার নাক দিয়ে লম্বা দম নিন। আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে দম ছাড়ুন। দম নিতে নিতে আপনি ভাবতে পারেন প্রকৃতি থেকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি আপনার শরীরে প্রবেশ করছে। আর দম ছাড়তে ছাড়তে ভাবতে পারেন শরীরের সকল দূষিত পদার্থ বাতাসের সাথে বেরিয়ে যাচ্ছে। এবার কিছুক্ষণ ধীরে ধীরে নাক দিয়ে দম নিন, ধীরে ধীরে নাক দিয়ে ছাড়ুন। এবার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন দমের ওপর। মনের চোখে কল্পনা করুন বাতাস কীভাবে নাক দিয়ে ঢুকছে, নাক দিয়ে বেরুচ্ছে। বাতাস স্বাভাবিকভাবে যাওয়া-আসা করুক। আপনি শুধু দমের প্রতি মনোযোগ দিন। এভাবে কিছুক্ষণ দম নেয়া এবং দম ছাড়ার পর আপনি অনুভব করবেন যে আপনার শরীর শিথিল হয়ে আসছে।
    এখন আপনি কল্পনা করুন একটা চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ যেটাকে কল্পনা করলেই আপনার মন প্রশান্তি/ আনন্দে ভরে উঠবে। এটাকে বলা যেতে পারে আপনার মনের বাড়ি। যে স্তরে মনের যেকোনো কল্যাণমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্রেনকে আপনি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবেন। যেমন- মনে মনে বলতে পারেন, এখন থেকে আমার স্মৃতিশক্তি বাড়বে। আত্মবিশ্বাস ও সাহস বাড়বে। আমার মনোযোগ বাড়বে। শরীর ও মন সবসময় সুস্থ থাকবে।
    এবার জেগে ওঠার পালা। কিছুসময়- এটা ১০/ ১৫ বা ২০ মিনিটও হতে পারে-মনের এক চমৎকার প্রশান্ত অবস্থায় কাটিয়ে আপনি মেডিটেশন থেকে বাস্তবে ফিরে আসবেন।

  • মেডিটেশন কি শুধু আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির জন্যেই?

    হাজার বছর ধরে আমাদের এই উপমহাদেশে ধ্যান মোরাকাবা বা মেডিটেশন চর্চা হয়েছে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্যে। ফলে তখন মেডিটেশন সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হতে পারে নি। কোয়ান্টাম মেথডে হাজার বছরের সেই শাশ্বত চর্চাকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ উপযোগী করে পার্থিব জীবনকে সুন্দর করার উপায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ব্যস্ত মানুষ মেডিটেশন চর্চা করে তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই শাশ্বত উপকার লাভ করতে পারে।
    সারা বিশ্বে আজ মেডিটেশনকে মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা, মেধার বিকাশের মাধ্যমে পেশাগত সাফল্য লাভের জন্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকায় মেডিটেশন চর্চা করা হচ্ছে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল ধারা হিসেবে। উন্নত দেশগুলোতে শিল্প বাণিজ্য অর্থনীতি ক্ষেত্রে মেডিটেশন চর্চা করা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে।
    আর কোয়ান্টাম মেথডের মাধ্যমে মেডিটেশন চর্চায় আরো দুটি মাত্রায় উপকৃত হওয়া যায়, তাহলো পারিবারিক সমৃদ্ধি ও আত্মিক পরিশুদ্ধি। সুতরাং এভাবে মেডিটেশন শুধু আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির জন্যেই নয় বরং আধুনিক মানুষের মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা, বৈষয়িক সাফল্য, পারিবারিক সমৃদ্ধি অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যে সমৃদ্ধ এক উপভোগ্য জীবন প্রাপ্তির জন্যেই মেডিটেশন।

  • মেডিটেশন শেখা কি খুব কঠিন? নিয়মিত প্র্যাকটিস কতটা সহজ?

    মেডিটেশন করা খুব সহজ। কোয়ান্টাম মেথডে আপনি খুব সহজে শরীর মনের শিথিলায়নের মাধ্যমে মেডিটেশনের লেভেলে পৌঁছে যেতে পারেন। এ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্যে বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নাই। বাংলা ভাষা বুঝতে পারলে এবং চেয়ারে বসে থাকার মতো শারীরিক যোগ্যতা থাকলেই হলো। নয় বছর থেকে নব্বই বছরের যে কেউ এ কোর্সে অংশ নিতে পারেন এবং একই রকমভাবে শিখতে পারেন, উপকৃত হতে পারেন এবং উপভোগ করতে পারেন। এ কোর্সে এত সহজে আপনি মেডিটেশন শিখতে পারবেন যে, দৈনন্দিন জীবনে খাওয়া ঘুমানোর মতোই মেডিটেশন আপনার প্রাত্যহিক কাজের অংশ হয়ে যাবে। ফলে নিয়মিত মেডিটেশন করা আপনার অজান্তেই পরিণত হবে আপনার দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য সুঅভ্যাসে।
    তবে আপনি যদি কোয়ান্টাম মেথড কোর্সে এখনো অংশ না নিয়ে থাকেন তাহলেও আপনি মেডিটেশন করতে পারবেন। আপনি আজই শুরু করতে পারেন। ওয়েবসাইট থেকে মেডিটেশন ডাউনলোড করে এক্ষুণি বসে যান। ধাপে ধাপে ধীরে ধীরে আপনি প্রবেশ করবেন এক অপার্থিব শান্তির জগতে। আর নিজেকে আবিষ্কার করবেন প্রশান্তি সুস্বাস্থ্য সাফল্যের পথে হাজারো সহযাত্রীর একজন হিসেবে।

  • মেডিটেশন করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়?

    মেডিটেশনের উপকার এক কথায় বলতে গেলে বহুমুখী ও বিবিধ। নিয়মিত মেডিটেশন করার ফলে আপনার জীবন হবে আরো সহজ, আরো সুন্দর, আরো উপভোগ্য। আপনি পাবেন সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। মেডিটেশন চর্চা করে আপনি কতভাবে উপকৃত হতে পারেন তার একটি তালিকা সংক্ষিপ্ত তালিকা এখানে সংযুক্ত হলো। কোয়ান্টাম মেথডের শত উপকার



মেডিটেশন-ধর্মের আলোকে

মেডিটেশন - বিজ্ঞানের চোখে

Science Sayআমরা জানি বিশ্রাম, তন্দ্রা বা নিদ্রাকালীন সময়ে অবচেতন মন সবচেয়ে সৃজনশীল থাকে ও... বিস্তারিত পড়ুন

Throughout Image
Celebrities Image

Warning: Do not remove form Invisible region.

by Tazim.