www.quantummethod.org.bd
কোয়ান্টামে নারী PDF Print E-mail

 

কোয়ান্টামে নারী

গৃহিণী হোন বা পেশাজীবী, অসহায় বা আপাত সফল, প্রাচ্যের অথবা পাশ্চাত্যের, প্রত্যেক নারীর জীবনের নেপথ্যেই পাওয়া যাবে একটি অজানা অধ্যায়। যেখানে একজন নারী হিসেবে তাকে প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় নানা প্রতিকূলতার। মেধা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পাড়ি দিতে হয় বন্ধুর পথ। আপাত সুখের অন্তরালে  ভোগ করতে হয় বঞ্চনা ও নিগ্রহ।
এ নিগ্রহের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে নারীকে তার প্রকৃত মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা মানবিক মহাসমাজ নির্মাণের পূর্বশর্ত। ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই এ লক্ষ্যে কাজ করে এসেছে। আর তার প্রথম পদক্ষেপ হলো নারীকে ঘিরে ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণা ও আচার-অভ্যাস দূর করা।

২০০৩ সালে ‘পারিবারিক জীবনে অবিদ্যা’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে গুরুজী শহীদ আল বোখারী মহাজাতক পারিবারিক জীবনের প্রধান অবিদ্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন নারীর প্রতি ভ্রান্তবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিকে। ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, নারী সকল পাপের উৎস, ছেলে আপন মেয়ে পর- এ ধারণাগুলো একান্তই অবিদ্যা। যে পরিবারে নারীর সম্মান নেই, সে পরিবারে কখনোই সুখ, শান্তি আসতে পারে না। তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জন ও আত্মপরিচয় সৃষ্টিতে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে দিতে হবে সমান অধিকার।

সত্য ও ন্যায়ের প্রতি নারীর আকর্ষণ সহজাত। সেই সাথে নারী ও তার অধিকারের প্রতি এই সম্মানের কারণে কোয়ান্টামকে মনে প্রাণে গ্রহণ করেছেন সমাজের সকল স্তরের নারীরা। কোয়ান্টাম চেতনাকে লালন করার পাশাপাশি সম্পৃক্ত হচ্ছেন কোয়ান্টামের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে। কেউ গৃহকর্ম বা পেশার পাশাপাশি, কেউ জীবনের সবটুকু সময়ই দিচ্ছেন ফাউন্ডেশনকে। সামাজিকভাবে সম্মানিত প্রতিশ্রুতিশীল ক্যারিয়ার ছেড়ে কোয়ান্টামকে মিশন হিসেবে গ্রহণ করেছেন অনেক নারী।

পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যম নারীপুরুষের সম্পর্ক এমনভাবে চিত্রিত করছে যে, তারা যেন পৃথিবীতে মারামারি কাটাকাটি করতে এসেছে। কিন্তু কোয়ান্টাম চেতনায় নারীপুরুষ একে অপরের পরিপূরক। ফাউন্ডেশেনে এসে নারীরা তাই পাচ্ছেন একটি শান্তিময় পারিবারিক জীবন নির্মাণের অনুপ্রেরণা এবং এ সংক্রান্ত নানা কার্যকর পথ-নির্দেশনা। পাশাপাশি পাচ্ছেন তাদের অবদানের স্বীকৃতী এবং আত্মপরিচয় সৃষ্টির সুযোগ।
একসময় যাদের পরিচিতি ছিলো শুধুই একজন গৃহিণী- ঘরকন্নার কাজ, অতিথি আপ্যায়ন আর বিনোদনের নামে টিভি দেখেই যাদের জীবন কেটে যেতো, তারাই ফাউন্ডেশনের সাথে একাত্ম হয়ে চমৎকার মেধার স্বাক্ষর রাখছেন নানামুখী ক্ষেত্রে। দ্বিধাহীন বিশ্বাস আর আন্তরিক আচরণ দিয়ে সহজেই অন্যদের উদ্বুদ্ধ করছেন কোর্সে অংশগ্রহণ অথবা মাটির ব্যাংকে দান করতে। জীবনে কোনোদিন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান নি যিনি, চমৎকার উপস্থাপনায় তিনি অনুপ্রাণিত করছেন শত শত মানুষকে। দক্ষভাবে পরিচালনা করছেন হাজার হাজার সদস্যবিশিষ্ট কোয়ান্টাম সেল বা শাখা।

রক্তদান থেকে ত্রাণ কার্যক্রম, চিকিৎসাসেবা থেকে বৃক্ষরোপণ- সব কার্যক্রমেই পুরুষের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করছেন নারীরা। প্রতি বছরই বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণের হার। হিলিং এবং কোয়ান্টায়নে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণই বেশি। সফলভাবে সন্তান পালন করার পর অথবা আনুষ্ঠানিক ক্যারিয়ার শেষ করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে সময় দিয়ে জীবনের শেষার্ধকে চমৎকারভাবে অর্থপূর্ণ করে তুলছেন অনেক নারী। কেন্দ্র পরিচালিত হিলিং সেশনে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের সম্মান অর্জন করেছেন মোহাম্মদপুর শাখার বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য সুরজাহান বেগম। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বেগম শামসুন্নাহার, যিনি একসময় পিঠ ও হাঁটুব্যথায় প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিলেন, এখন মিরপুর সেন্টারের সেবা কার্যক্রমের আওতায় অসুস্থদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের জন্য দোয়া করছেন। নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল হিসেবে অবসর গ্রহণের পর কোয়ান্টাম শিশু সদনের পরিচালক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন সাহিদা বানু।

সারা পৃথিবীতে নারী যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে সংগ্রাম করছে, সেই অধিকারগুলো ফাউন্ডেশনে সে পেয়েছে কোনো সংগ্রাম ছাড়াই। ফাউন্ডেশনে নারী ও পুরুষ এক কাতারের সহযোদ্ধা। যথোপযুক্ত সুযোগ ও সম্মান পাওয়ায় নারী তার মেধাকে বিকশিত করছে সহজ স্বতঃস্ফর্তায়| ফলে ফাউন্ডেশনে বিভিন্ন স্তরের কার্যক্রমের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের একটা বড় অংশই এখন নারী। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও পরিচালক-স্বমন্বয় দুজনই নারী। শাখার পরিচালকদের মধ্যেও নারীদেরই প্রাধান্য। সাংগঠনিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের নেতৃত্বেও আছেন নারীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেতনার প্রসারে পুরুষের চেয়েও অগ্রগামী নারীরা। আন্তরিক ও অকৃত্রিম আচরণের মাধ্যমে সহজেই অন্যদের কোয়ান্টামের প্রতি আকৃষ্ট করেছেন গৃহিণীরা। স্বামীর তুলনায় স্ত্রীরাই তাদের জীবনসঙ্গীদের কোর্সে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন বেশি। ঘরে ঘরে কোয়ান্টাম বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনেককে ৩০০তম কোর্সে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছেন অনেক নারী।

 

Quantum Schedule

<<  September 2010  >>
 S  M  T  W  T  F  S 
   
10
13141518
1920212223
272830