হৃদরোগ নিরাময়ে বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া

Dr. Talat Mohammad
ডা. তালাত মোহাম্মদ
চিকিৎসক, ২৭৬ ব্যাচের গ্রাজুয়েট

ছোটবেলা থেকেই আমি ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি, জগিংয়ে অভ্যস্ত ছিলাম। খাদ্যাভ্যাসও ছিল পরিমিত। তাই সবসময় ছিলাম সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং পরিশ্রমী। ১৯৮২ সালে ডাক্তারী পাস করে শুরু হয় আমার কর্মজীবন।

২০০১ সালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করি। যদিও কাজকর্ম করতে তেমন অসুবিধা হতো না। তারপরও সচেতনতা থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করালাম। এনজিওগ্রামে আমার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এরপর কার্ডিওলর্জিস্ট আমাকে সিএবিজি বা বাইপাস সার্জারি করার পরামর্শ দেন।

কিন্তু আমি অপারেশন ছাড়া নিরাময়ের কথা ভাবছিলাম এবং এই আশায় ২০০৫ এ ভারতের ব্যাঙ্গালোরে যাই। কিন্তু সেখানেও ডাক্তাররা সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাইপাস অপারেশন করার পরামর্শ দিলেন। অনিচ্ছা সত্বেও অপারেশন করাতে হলো।
অপারেশনের পর বুকে ব্যথা ছিলো না, কিন্তু সবসময় অস্থির বোধ করতাম, দুশ্চিন্তা বেড়ে গেল, হঠাৎ করেই খুব রেগে যেতাম। এমনকি রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমোতে হতো।

এ অবস্থায় কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট কন্যার পরামর্শে আমি কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করতে এলাম। কোর্সের প্রথমদিনই আমি টের পেলাম আমার মানসিক পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা পেলাম তা হলো রাগ ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়।
বর্তমানে আমি দুশ্চিন্তা-হতাশামুক্ত প্রশান্ত জীবনযাপন করছি। নিয়মিত দুবেলা মেডিটেশন করি। এছাড়া বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলেছি। চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিদিন ঢাকা নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করি। সার্জারিসহ দৈনন্দিন সব কাজ করি আত্মবিশ্বাসের সাথে।
আমি এখন অনেক ভাল আছি। চিকিৎসাশাস্ত্রে বলে- প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর। মেডিটেশন কোর্স যদি আগে করতাম, তাহলে হয়তো বাইপাস সার্জারি করতে হতো না। তাই সবার কাছে অনুরোধ করবো- আপনারা কোয়ান্টাম মেথড কোর্স করে জীবনকে সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ্যময় করে তুলুন।