সন্তান আমার বেঁচে আছে, ভালো আছে

বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় আমার স্বামী যখন আমাকে ফেলে আরেকটি বিয়ে করে চলে যায় তখনও বুঝি নি যে, আমি আমার দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে চলেছি। যখন টের পেলাম ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাচ্চা নষ্ট করতে চাইলাম। ডাক্তার বললেন, এ অবস্থায় বাচ্চা নষ্ট করতে গেলে আমার জীবন সঙ্কটের মুখে পড়বে।
এদিকে দরিদ্র বাবার সংসারে আমি হয়ে গেলাম আরেক বোঝা। নিত্যদিন কলহ-বিবাদ। অসহ্য হয়ে একদিন আত্মহত্যার চেষ্টা করলাম। তা-ও পারলাম না। এমন সময় একদিন আমার ছোট ভাইকে খতনা করাতে গিয়ে আমার মা খোঁজ পায় কোয়ান্টাম মাতৃমঙ্গল কার্যক্রমের। মায়ের সাথে গেলাম সেখানে। ততদিনে আমি ৫/৬ মাসেরও বেশি সময়ের গর্ভবতী। সাধারণত মাতৃমঙ্গলে ৩ মাসের বেশি সময়ের গর্ভবতীদের নেয়া হয় না। কিন্তু আমার অসহায় অবস্থার কথা শুনে তারা আমাকে নিতে রাজী হলেন। গর্ভকালীন বাকি পুরোটা সময় আমি ছিলাম মাতৃমঙ্গলের সেবার আওতায়। প্রতিদিন দুধ-ডিমের সরবরাহ থেকে শুরু করে মেডিকেল চেকআপ, আলট্রা সনোগ্রাফির খরচ সবই আমি পেয়েছি এখান থেকে। আমার বাচ্চাটার জন্ম হয় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে। সে খরচ এবং বাচ্চার জন্মের পরের ব্যয়গুলোও বহন করেছে কোয়ান্টাম। মাতৃমঙ্গলের সেবা না পেলে আমার এই সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারতাম কি না আমি জানি না।