রোগহীন রোগী ছিলাম

আবদুল মান্নান সরকার
আবদুল মান্নান সরকার
প্রিন্সিপাল, মেহের নিগার স্কুল এন্ড কলেজ, ১০০ ব্যাচের গ্রাজুয়েট

একদিন সকালে হঠাৎ করেই বুকের ডানপাশে ব্যথা অনুভব করলাম। পাত্তা দেই নি তখন। কিন্তু বিকেল নাগাদ ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় ঘাবড়ে গেলাম। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বললেন, বিলিরুবিনের মাত্রা খুব বেশি এবং খারাপ ধরনের জন্ডিস হতে পারে। পরদিন ঢাকার একটি হাসপাতালে কয়েকটি টেস্ট করালাম। কিন্তু রিপোর্টে কিছু বোঝা গেল না। আরো দুবার অন্য হাসপাতালে একই টেস্ট করা হলো। এরপর ডাক্তাররাই বললেন হাসপাতালে ভর্তি হতে। টানা ১৫ দিন থাকলাম, অথচ রোগ নির্ণয় করা গেল না। ১৬ তম দিনে পরীক্ষায় লিভারের নিচে একটা ঝাপসা কিছু দেখা গেল। সিটিস্ক্যানে বোঝা গেল টিউমার। অপারেশন করাতেই হবে। তা না হলে ক্যান্সার হতে পারে।

এদিকে আমার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। শক্ত খাবার খেতে পারি না। সারাক্ষণ স্যালাইন চলে। ব্যথা হচ্ছিলো প্রচণ্ড। ডাক্তারদের ওপরও ভরসা হারিয়ে ফেলছিলাম। ধরেই নিয়েছিলাম যে, হাসপাতাল থেকে আর বেঁচে ফিরবো না। তাই অপারেশনের আগের দিন বাসায় চলে এলাম। দুবেলা নিরাময়ের মেডিটেশন শুরু করলাম। ৭ দিনের মাথায় ব্যথা অনেক কমে গেল। ২০ দিন পর মনেই হয় নি কখনো আমার ব্যথা হয়েছিলো। শুকরিয়া আদায় করে অপারেশন খরচের কিছু টাকা মাটির ব্যাংকে দান করলাম। গত ৪ বছরে পরম করুণাময়ের রহমতে আর একবারও সে ব্যথা হয় নি।