রাজি হয়ে গেলেন একবারেই

কোয়ান্টাম মেথড কোর্সের কথা শুনি আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি। কিন্তু তখন কোর্স করা হয়নি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ রেজাল্ট করতে না পেরে মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙ্গে পড়ি। ভীষণ হীনম্মন্যতায় ডুবে যাই। মনে হতো আমার পক্ষে আর কোনো কিছইু করা সম্ভব না। কী করবো কিছুই ভাবতে পারছিলাম না।
আমার অনেক আশা ছিলো একটা ভালো গ্রাজুয়েশন কোর্সে ভর্তি হবো। কিন্তু কোথাও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে এসিসিএ কের্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। কিন্তু আমার হতাশা এবং হীনম্মন্যতা দিনে দিনে আরো বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায় একদিন বইমেলায় ঘুরতে গিয়ে দেখলাম কোয়ান্টামের স্টল। চোখে পড়ামাত্রই ছুটে গেলাম। সেখান থেকে বই ও কণিকা কিনলাম। সাথে পেলাম আলোকায়নের একটি কার্ড। গেলাম মঙ্গলবারের আলোকায়নে। খুব ভালো লাগলো । ভালো ভালো কথা শুনে মনে আমার ভেতরে যেন একটা শান্তি অনুভব করলাম। কিছু সময়ের জন্যে যেন আমি আমার হতাশা ও হীনম্মন্যতা ভুলে গেলাম। ভালো লাগার টানেই পরের মঙ্গলবার আবার গেলাম।
দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়েই সিদ্ধান্ত নিলাম কোর্সটি আমাকে করতেই হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো? জানলাম কোর্স একাউন্টের কথা। সেদিন আমার পকেটে ছিলো দেড়শ টাকা। দেড়শ টাকা দিয়েই কোর্স একাউন্ট খুললাম। তারপরে হেঁটে হেঁটে বাসায় গেলাম। এর পরে সারা সপ্তাহে আমার ভার্সিটিতে যাওয়া আসার টাকা বাঁচিয়ে প্রতি সপ্তাহে আলোকায়নে এসে কোর্স একাউন্টে দেড়শ করে টাকা জমা দিতাম। এভাবে চার মাস চালালাম। ততদিনে শিখে গেলাম মনছবি কীভাবে করতে হয়। কোর্সে অংশ নিচ্ছি এমন মনছবি করতে থাকলাম। দেখলাম বাবাকে কোর্স করার কথা বলতেই তিনি রাজী হয়ে যাচ্ছেন এবং আমাকে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন।
চার মাস পরে বাবাকে কোর্সের কথা বললাম। তিনি সব শুনে রাজী হলেন একবারেই। টাকাও দিয়ে দিলেন। আমি কোর্স করলাম। কোর্স করার পরে আমি এখন একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ। আমি এখন মনে করি আমার পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব। আমি প্রত্যয়ের সাথে প্রতিটি কাজের পরিকল্পনা করি এবং মনছবির মতোই সফল হই। হীনম্মন্যতা দূর হয়ে আমার কর্মতৎপরতা বেড়েছে। পড়াশুনার পাশাপশি উপার্জন করছি। যা দিয়ে মেটাচ্ছি নিজের খরচ। কয়েক মাসের মধ্যেই আমি বাবকে কোর্সে অংশগ্রহণের জন্যে তার দেয়া সেই টাকা ফেরত দিতে চাইলাম। অনেক খুশি হলেও টাকাটা তিনি নিলেন না।