মা বুকে জড়িয়ে ধরলেন

এন হোসেন

মা-বাবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর আমার পারিবারিক জীবন বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। মা-বাবার মধ্যে সদ্ভাব ছিলো না। থাকতাম মায়ের সাথে। বাবার সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হতো। এ ব্যাপারটাকে মা পছন্দ করতেন না। প্রায়ই দুর্ব্যবহার করতেন। একসময় আমার মনে হতো পৃথিবী একটা কারাগার। মৃত্যুই মুক্তির উপায়।

কোর্স করার পর আমার চিন্তা-চেতনা পুরোপুরি পাল্টে গেল। নিয়মিত পারিবারিক মেডিটেশনে পরিবারের সবার জন্যে দোয়া করতে লাগলাম। মা-র বকা-ঝকা, কটুকথা, গালিগালাজ, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ সব হাসিমুখে সহ্য করেছি। এমনকি মা যখন আমার টিউশনির টাকায় কষ্ট করে কেনা কলেজের বই-পত্রগুলোও জানালা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন তখনও প্রো-একটিভ ছিলাম। মেডিটেশনে নিজেকে অটোসাজেশন দিতাম যে, মাকে আমি আরো শ্রদ্ধা করছি। তার সব আচরণকে প্রো-একটিভভাবে নিচ্ছি। মনছবি দেখতাম, মায়ের প্রতি আমার ভালবাসা আরো দৃঢ় হচ্ছে।

একদিন মা তার ভুল বুঝতে পেরে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। আজ আমাদের পরিবারের সবাই সমমর্মী ও মমতাশীল। যদিও অর্থের অনটন আছে, মাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, তবুও আজ আমরা অনেক সুখী।