মা ওই যে আমাকে নিতে আসছে! আমি ভয় পাচ্ছি!

খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারতো সে। লেখাপড়ায়ও ছিলো খুব মেধাবী। এত সুন্দর করে কথা বলতো যে সবাই অবাক হয়ে যেতাম। মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার যে এভাবে যে তাকে আমাদের কাছ থেকে চিরতরে নিয়ে যাবে তা কখনো ভাবতে পারি নি। রক্তও দেওয়া হয়েছিলো বেশ কয়েকবার। বড় ভাই বেশ কয়েকবার ওকে রক্ত দিয়েছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্তে ২ মাস তাকে রক্ত দেওয়া যায় নি। রক্তের অভাবে এভাবেই মারা যাওয়া বড় ভাইয়ের উচ্ছল উদ্যম ছেলেটির কথা বললেন চাচা বার্নার্ড বাসুদেব বর্মন। সবার মাঝেই আমি যেন তার জ্বল জ্বল চোখে মিষ্টি হেসে চাচ্চু ডাকার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
ক্যান্সার বা ডায়ালাইসিস রোগী বেশ কয়েকজনকে রক্ত দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ বার রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু রক্তের গ্রুপের মিল না থাকায় ভাইয়ের ছেলেকে রক্ত দিতে পারেন নি। আর কোনো মৃত্যুপথযাত্রীকে রক্তের সংকটে বা দুর্বিসহ জীবন নিয়ে মায়ের কোলে শুয়ে বলতে যেন না হয় মা ওই যে আমাকে নিতে আসছে, আমি ভয় পাচ্ছি।
মারা যাওয়ার খানিকটা সময় আগে এভাবেই সবার কাছ থেকে বিদায় নেয়া ১১ বছর বয়সী শিশুটির আর্তি। আমরা কি পারি না নিজ শরীরের এতটুকু রক্ত দিয়ে তাদের জীবনযন্ত্রণা খানিকটুকু মুছে দিতে।