মানুষের নির্ভরতার প্রতীক কোয়ান্টাম

আমার বাসার দক্ষিণ দিকে একটি বারান্দা আছে। বারান্দাটি আমাদের খুব প্রিয়। রাতে মেডিটেশনের পর যখন বারান্দায় দাঁড়াই, বাইরের গাছপালাগুলো যেন গভীর মমতায় ঝুঁকে আসে কাছে; যেন জানাতে চায় প্রকৃতির সাথে মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্কের কথা। এ বোধটিই আমার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সঞ্চারিত করার চেষ্টা করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কক্ষের দেয়ালে একটি ছোট্ট নোটিশ বোর্ড আছে। তাতে এক টুকরো কাগজে লিখেছি- ‘আমরা এক মহান জাতি’। নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিতে চাই- আমরা এক মহান জাতির উত্তরসূরি। আমাদের গৌরবময় অতীত আছে, রয়েছে প্রচণ্ড সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।
ফাউন্ডেশনে যখনই আসি, দেখি তারুণ্যে দীপ্ত সদাহাস্যমুখ একদল বিনম্র মানুষকে, এই সম্ভাবনা তখন এক নিকট বাস্তবতার রূপ নিয়ে দাঁড়ায় আমার সামনে। মনে হয়, এ দেশের এ জাতির পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। কারণ একদল মানুষ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন। এই দলটি অতি দ্রুত বিশাল একটি আকার নেবে। নতুন নেতৃত্ব, নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বিভিন্ন বয়সের এই নতুন প্রজন্মের মানুষদের মাঝ থেকে।
ফাউন্ডেশনের সাথে সম্পৃক্ততার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অপূর্ব সব অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি হয়েছে। লামার কোয়ান্টাম পল্লী, শিশুকানন, কেন্দ্রের আলোকায়ন, কোয়ান্টায়নে জালালি কিংবা বিভিন্ন ওয়ার্কশপ প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকেই নতুন উপলব্ধি আর অনির্বচনীয় অনুভূতি হয়েছে।
গত ১৭ বছরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশে ধ্যানচর্চাকে জনপ্রিয় করেছে। রোগ ও সমস্যামুক্তির জন্যে হিলিং-এর সেবার মাধ্যমে অজস্র মানুষের নিশ্চিত নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কোয়ান্টাম মেথড কোর্স মানুষকে দিয়েছে জীবনযাপনের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মনের শক্তিকে ব্যবহারের সহজ প্রক্রিয়া। মাত্র ১৭ বছরে ৩০০টি কোর্স সম্পন্ন করার ইতিহাসই বলে দেয় ফাউন্ডেশনের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা কতটুকু।