- বাংলা
- English
প্রস্তুতি নিন আঁটঘাট বেঁধে

ভালো করতে হলে আপনার বিষয় সম্পর্কে আপনাকে যেমন ভালো জানতে হবে, তেমনি জানতে হবে পরীক্ষায় ভালো করার খুঁটিনাটিও। প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এজন্যে আগের বছরগুলোর প্রশ্নে চোখ বোলাতে পারেন। দেখুন কী ধরনের, কতগুলো প্রশ্ন আসতে পারে। কত নম্বর থাকবে। কতটা সময় পাবেন। এবং অতি অবশ্যই নিশ্চিত হবেন কবে কখন কোথায় পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার রুটিন স্বচক্ষে দেখুন। কমপক্ষে দুজনকে দিয়ে তা নিশ্চিত করুন।
যদি আপনার কোর্স টিচারই আপনার পরীক্ষক হন, তাহলে ক্লাসেই আপনি পেয়ে যেতে পারেন পরীক্ষায় আসবে এমন গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোর একটা ইঙ্গিত, সেইসাথে কীভাবে এগুলোর উত্তর দিতে হবে। এজন্যে ক্লাসে নিয়মিত থাকুন। যে বিষয়গুলোকে টিচার বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সেগুলোকে আপনিও গুরুত্ব দিন।
মূল পরীক্ষার আগে মডেল প্রশ্নপত্রের আলোকে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দিন। ভুলগুলো থেকে শিখুন। প্রস্তুতিকে শাণিত করুন।
- প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে আগেই ধারণা রাখুন। বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার এসেছে এমন প্রশ্নগুলোকে গুরুত্ব দিন।
- মূল পরীক্ষার আগে মডেল প্রশ্নপত্রের আলোকে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দিন।
- পরীক্ষার রুটিন স্বচক্ষে দেখুন। কমপক্ষে দুজনকে দিয়ে তা নিশ্চিত করুন।
- প্রস্তুতির ব্যাপারে (জানতে চাইলে) বলুন, ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ! বেশ ভালো/ আমি চেষ্টা করছি।’
- পরীক্ষার আগের রাতেই কলম-পেন্সিল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন।
এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
- প্রস্তুতির চেয়ে প্রস্তুতি নিয়ে টেনশন করে সময় নষ্ট করা। ‘এত পড়া কখন পড়বো!’ ভাবতে ভাবতে সময় পার করা।
- ‘আমি সব পারি, পরীক্ষার আগে একবার দেখলেই হবে’- বা ‘বানিয়ে বানিয়ে লিখবো’ এমন অতি আশাবাদ ব্যক্ত করা।
- এবার কোনোরকমে পরীক্ষাটা দিই, পরেরবার ভালোভাবে পড়বো- সান্ত্বনার এ ধরনের দুষ্টচক্র তৈরি করা।
- সব পড়ার দরকার কী? সব তো পড়ে আঁতেলরা। স্মার্টরা সব না পড়ে সাজেশন দেখে বেছে পড়ে। এই ভ্রান্ত ধারণায় আক্রান্ত হওয়া। পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত শর্ট সাজেশনের অপেক্ষায় না পড়াও এ জাতীয় ভ্রান্ত ধারণা।
- অন্যেরা কেমন করছে এ নিয়ে ভাববেন না। আপনার পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করবে আপনার যথাযথ প্রস্তুতির ওপর।
- পরীক্ষার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত হুড়মুড় করে সব রিভাইজ করতে যাবেন না।
- মিডটার্ম বা ইনকোর্স পরীক্ষা কোনো ব্যাপার না। কোনোরকমে দিলেই হলো। এ জাতীয় ধারণা।
- এত পড়ে লাভ কী? সেই তো সেকেন্ড ক্লাসই পাবো। বা বি গ্রেড পাবো। এ ধারণার বশবর্তী হয়ে হতাশ হওয়া।
- পরীক্ষার দিন প্রয়োজন আপনার পূর্ণ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা
- ক মতো খান
- অনেক ছাত্রছাত্রীরই অভ্যাস হলো পরীক্ষার দিন সকালে নাশতা না খাওয়া। এতে পরীক্ষার সময় আপনার শারীরিক অস্বস্তি এমনকি অসুস্থতাও হতে পারে। ডারহামের হাইস্কুল ছাত্রছাত্রীদের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত পানি এবং সুষম শর্করাজাতীয় খাবার খায়, তারা ভালো করছে। সুতরাং সুষম খাবার খান। রিচফুড, বেশি মিষ্টি, ফাস্ট ফুড এবং অন্যান্য ভারী খাবারকে এড়িয়ে চলুন।
- রাতে ভালো ঘুমান
আপনি পরীক্ষার আগে সারারাত জাগলেন আর পরীক্ষার হলে গিয়ে আবিষ্কার করলেন আপনার মাথা কাজ করছে না বা শরীর খারাপ লাগছে তাহলে কিন্তু হবে না। কারণ রাত জাগাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভালো পরীক্ষা দেয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে ছাত্ররা পরীক্ষার আগের রাতে ভালো ঘুমিয়েছে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় তাদের ফল যারা রাত জেগেছে তাদের চেয়ে ২৫% বেশি ভালো হয়েছে। আরেকটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, অংক পরীক্ষা বেশি ভালো হয়েছে যারা আগের রাতে ভালো ঘুমিয়েছে তাদের। - মেডিটেশন করুন
নিয়মিত মেডিটেশনের প্রথম লাভই হলো মনের এক অসাধারণ প্রশান্তি ও আনন্দে অবগাহন করতে পারার ক্ষমতা। আর একজন পরীক্ষার্থীর জন্যে এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না। অস্থিরতা, ভয়, অনিশ্চয়তা বা টেনশন ইত্যাদি কোনোকিছুই আপনাকে আর কাবু করতে পারবে না। - জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন
পরীক্ষার আগের রাতেই কলম-পেন্সিল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন যাতে সকালবেলা আপনি তাড়াহুড়োয় পড়ে না যান। - পরীক্ষার হলে পৌঁছে যান আগেভাগেই
পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগেই হলে পৌঁছে যান। সুযোগ থাকলে ৫ মিনিটের একটা ছোট্ট মেডিটেশন করে নিন। অটোসাজেশন দিন যে, পরীক্ষা চলাকালে আমি প্রশান্ত ও সজাগ থাকবো। প্রশান্ত মনে আত্মপ্রত্যয়ের সাথে প্রতিটি প্রশ্নের দ্রুত সঠিক উত্তর লিখবো। যা পড়েছি তা পরীক্ষার হলে বসে অনায়াসে মনে করবো। পরীক্ষার সময় অনায়াসে আমি আমার মেধার চমৎকার প্রয়োগ করবো।