পার্থক্য শুধুমাত্র আত্মবিশ্বাসে

আমি তখন ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকের ‘আনুষঙ্গিক’ বিভাগের প্রধান। স্থাপত্য বিভাগের ২য় শিফটের ছাত্রীদের ক্লাস নিতাম। ওখানকার মেয়েদের খুব সাধারণ পরিচয় ছিলো যে, ওরা হলো ‘খারাপ ছাত্রী’। ওরাও যেন এ বিশেষণটাকে নিয়তি বলেই মেনে নিয়েছিলো। ভালো করা তো দূরের কথা, পাশ করতে পারলেই ওরা খুশি। এমনসময় কোর্স করি। কোর্সে কথাগুলো এত ভালো লাগলো যে, বার বার মনে হচ্ছিলো আমার ছাত্রীদের যদি এটা করানো যেতো! কোর্সের পর আমি নিজেই ওদের মেডিটেশন শেখালাম। বোঝালাম, ‘খারাপ ছাত্রী’ বলে কিছু নেই। মনোযোগ দাও, চেষ্টা কর, তোমরা ভালো করতে পারবে। নানাভাবে ওদের অনুপ্রাণিত করতাম। প্রতিক্লাসে একটু সময় মেডিটেশন করাতাম। ক্লাস শেষে পরীক্ষা নিতাম। আস্তে আস্তে ওরা ভালো করতে শুরু করলো। যে কি না ইংরেজি বলতে পারতো না, সে এখন ইংরেজি বলছে, লিখছে। অবাক হতাম- শুধু আত্মবিশ্বাস একজনকে কীভাবে পাল্টে দেয়! দুবছর পর বোর্ড ফাইনালের রেজাল্ট দেখে হতবাক হয়ে গেলাম- প্রত্যেকেই ভালো করে পাশ করেছে এবং তাদের কয়েকজন মেধা তালিকায় স্থানও পেয়েছে।