পশুসম্পদ প্রকল্প


পশুসম্পদ প্রকল্প-ঋণমুক্ত স্বনির্ভরতার পথ। দারিদ্র বিমোচন এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এক সফল প্রয়াস পশুসম্পদ প্রকল্প। বাস্তুভিটাহারা, ঋণজর্জরিত ও বঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হচ্ছে এর মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে যাকাত ফান্ড থেকে ক্রয়কৃত গরু যাকাত গ্রহীতা নিজ দায়িত্বে লালনপালন করে বড় করে তোলেন। তারপর বিক্রয় উপযোগী হলে তা বিক্রির টাকা থেকে গরুর ক্রয়মূল্য বাদ দিয়ে যে লাভ থাকে সে টাকা ফাউন্ডেশন ও লালনকারী ব্যক্তি সমানভাবে ভাগ করে নেন। ফাউন্ডেশন তা দিয়ে আবার নতুন করে তাকে একাধিক গরু কিনে দেয়। ইতোমধ্যেই কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ ধরে এ প্রকল্পের মাধ্যমে দাঁড়াতে শুরু করেছে অনেক পরিবার।

লামার কেয়াজুপাড়ার কমলাখোলার বাস্তুভিটাহীন দিনমজুর সাহাবুদ্দিন ২টি গরু নেন ২০০২ সালে। এখন গরুর সংখ্যা ৬টি। ৪টি গরু বিক্রি করে যে লাভ পেয়েছেন তা দিয়ে এখন তিনি জমি কিনে নিজস্ব ঘর তৈরি করবেন বলে ভাবছেন। 

মাগুরার শালিখা থানার শতখালী ইউনিয়নের সহায় সম্বলহীন সুন্দরীকে জামানতের অভাবে কোনো ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থাও ঋণ দিতে আগ্রহী ছিলো না। পশুসম্পদ প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি বাছুর দেয়া হয়। ৬ মাস লালনপালনের পর এটি বিক্রি করে তার লাভ হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। পরবর্তীতে তিনি আরো দুটি বাছুর নিয়ে লাভের টাকায় নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন হাঁসমুরগীর খামার।

একই ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের মোছাম্মা খাতুন দুটি গরু পালন করে মুনাফা করেছেন সাড়ে ৮ হাজার টাকা। আথির্ক সচ্ছলতা এসেছে তার পরিবারে। এখন গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে ক্ষুদে খামার তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি।

এভাবে ঋণজর্জরিত ও হতদরিদ্রদের স্বাবলম্বী করে তোলাই হচ্ছে পশুসম্পদ প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য। ফাউন্ডেশনের আওতায় শতখালী ইউনিয়নে ৮ টি গ্রামে এ পর্যন্ত ২০০ টি পরিবারে ২৪৩ টি গরু, লামায় ৭১ টি পরিবারে ১৬৬ টি এবং কুমিল্লায় ৩ টি গরু বিতরণ করা হয়েছে।

Site's Category: