নাদিরার স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়া

তখন ওর বয়স মাত্র ১৮ দিন। আর কিছুক্ষণ পরই তাকে তুলে দেয়া হবে সঙ্ঘবদ্ধ শিশু পাচারকারীদের হাতে। সব ঠিকঠাক। কোনোরকমে বাংলাদেশ সীমান্তের বাইরে নিয়ে যেতে পারলেই কেল্লা ফতে! লোকমুখে এ খবর পেয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের রাজশাহী সেন্টারের দায়িত্বশীলরা ছুটে গেলেন সেখানে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় শিশুটির আত্মিক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিলো কোয়ান্টাম শিশুসদন।
২০০৪ সালে কোয়ান্টাম শিশুসদনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো যে শিশুটিকে নিয়ে সেই নাদিরা তাহসীনের এটুকু অতীতই শুধু জানা যায়। এখন নাদিরার বয়স ৬ বছর। পড়ছে ক্লাস ওয়ানে। স্বপ্ন তার ডাক্তার হওয়ার। সুযোগ পেলেই তাই শিশুসদনের বাকি বোনদের রোগী বানিয়ে ডাক্তার ডাক্তার খেলে সে।
নাদিয়ার মতোই এরকম দুস্থ ও ছিন্নমূল নবজাতকদের আশ্রয়দান ও লালনের জন্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের রাজশাহী সেন্টারে গড়ে উঠেছে কোয়ান্টাম শিশুসদন। ২০০৪ সালের মার্চে নাদিয়ার আগমনের পর একে একে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে নাফিসা, নাবিলা, লাবিবা, নাজিয়াসহ মোট ১১টি শিশু। এরা সবাই শিশুসদনে এসেছে ৩০ দিনেরও কম বয়সে। কাউকে তাদের অভিভাবক স্বেচ্ছায় দিয়ে গেছেন। আবার কাউকে পাওয়া গেছে পরিত্যক্ত অবস্থায়।
সমাজের চোখে ভাগ্যাহত এ শিশুরা শিশুসদনে বেড়ে উঠছে সৌভাগ্যবান শিশু হিসেবে। আপন সন্তানের মতোই যত্নে লালিত হচ্ছে এরা। শিশুদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্যে রয়েছেন ৯ জন আয়া। বাচ্চারা তাদেরকেই মা বলে ডাকে। খেলাধুলো, দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়েই একজন হাউজ টিউটরের কাছে চলে ছড়া-কবিতা, বর্ণমালা আর অংক শেখার ক্লাস। তাদের প্রতিদিনের খাবারের মেনু তৈরি করা হয়েছে পুষ্টিবিজ্ঞানের আলোকে। এছাড়া সপ্তাহে ২ দিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।
এতিম, পরিত্যক্ত যে মাসুম শিশুরা একসময় পরিস্থিতির বলি হতে যাচ্ছিলো, তারাই এখন একটু একটু করে বেড়ে উঠছে আলোকিত মানুষ হিসেবে। পরিবার তাদের স্থান দিতে পারে নি, কিন্তু তারাই একসময় সবখানে গড়ে নেবে নিজেদের সম্মানজনক অবস্থান।