ছেলের লাশ নিয়ে প্রতারক চক্রের খপ্পড়ে পড়েছিলেন হাজেরা

সকাল থেকেই হাসপাতালের সামনে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছেন হাজেরা খাতুন। তবে জীবিত ছেলেকে নয়, ছেলের লাশকে নিয়ে। কয়েকদিনের ডায়রিয়ায় ভুগে আজ সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে হাজেরার ২ বছরের শিশুসন্তানটি।

হাজেরার বাড়ি রাজশাহী শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চাঁপাইনওয়াবগঞ্জ জেলায়। ছেলে জন্মের কয়েকদিন পরেই স্বামী তাকে ফেলে চলে যায়। দুধের বাচ্চাটিকে নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি ফুট-ফরমাশ খেটে কোনোরকমে চলতো হাজেরার দিন। কদিন আগে ছেলেটা ডায়রিয়ায় পড়লো। কিন্তু অজ পাড়া গাঁয়ের দরিদ্র-অশিক্ষিত মা হাজেরা তাকে কোনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় নি। ভাবলো কয়েকদিন পরে এমনিই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু অবস্থা যখন খারাপের দিকে মোড় নিলো তখন ছেলেকে নিয়ে হাজেরা একাই বাসে করে চলে এলো রাজশাহীতে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালে ভর্তির একদিন পরই মারা গেলো বাচ্চাটা।

ছেলের লাশ বুকে জড়িয়ে হাসপাতালের বাইরে বেরুতে না বেরুতেই হাজেরাকে ঘিরে ধরলো একদল অচেনা লোক। হাজেরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকগুলো চিৎকার করে আশপাশের মানুষদের কাছে লাশ দাফনের জন্যে চাঁদা চাইতে লাগলো। হাজেরা যে বাধা দেবে সে উপায়ও নেই। কারণ লোকগুলো না তাকে কিছু বলতে দিচ্ছে। না দিচ্ছে অন্য কাউকে তার সাথে কোনো কথা বলতে।

অবস্থাটা আঁচ করতে পেরে হাসপাতালেরই একজন কর্মচারী খবর দিলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে। কারণ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছা দাফন কার্যক্রমের কথা তার জানা ছিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে গেলেন ফাউন্ডেশনের কোয়ান্টিয়াররা। পুরো ব্যাপারটা তারাও বুঝলেন। অনেক কষ্টে এবং কৌশলে শেষ পর্যন্ত ঐ চক্রের খপ্পর থেকে যখন হাজেরাকে বের করে ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসা হয় তখন জানা গেলো তার সব কথা। হাজেরার ছেলের দাফনের সমস্ত ব্যবস্থা করে একজন কোয়ান্টিয়ারকে দিয়ে হাজেরাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও করে দিলো ফাউন্ডেশন।