খতনা কার্যক্রম

বস্তির একচিলতে ঘরটায় মন খারাপ করে শুয়ে আছে ১২ বছর বয়সী মন্টু মিয়া। কারণ তার মা যে সাহেবের বাসায় কাজ করে আজ তার বড় ছেলেটির মুসলমানির অনুষ্ঠান হচ্ছে খুব ধুমধাম করে। হায়রে নিয়তি! কেউ হাজার হাজার টাকা খরচ করে মুসলমানির অনুষ্ঠান করে, আর কেউ বয়স পেরিয়ে গেলেও সামান্য কয়েকশ টাকার জন্যে পারে না খতনা করাতে।
এরকম হাজারো মন্টু মিয়ার কষ্টের সমব্যথী হতে জুলাই ২০০৫ থেকে ফাউন্ডেশনের সিলেট সেন্টারের উদ্যোগে শুরু হয় খতনা কার্যক্রম। এ পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোরকে খতনা সেবা দেয়া হয়েছে।
খতনার পর প্রত্যেককে ১টি করে লুঙ্গি, গামছা এবং ক্ষত শুকানোর জন্যে ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক, পেইনকিলার ও ভিটামিন-সি ট্যাবলেট দেয়া হয়। নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশু-কিশোর এমনকি শৈশবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে খতনার সুবিধাবঞ্চিত যুবক ও পূর্ণবয়স্ক পুরুষরাও এখন ফাউন্ডেশনের এ সেবা গ্রহণ করছেন।
কোথায় কোথায় দেয়া হয় এ সেবা
জুলাই ২০০৫ থেকে সিলেট সেন্টারের উদ্যোগে শুরু হওয়া খতনা কার্যক্রম এখন চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও মিরপুর সেন্টার ছাড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকার সবুজবাগ, মতিঝিল, উত্তরা, ধানমন্ডি, গেণ্ডারিয়া, কুড়িল শাখা ও শ্যামলী সেলে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, সীতাকুণ্ড, পতেঙ্গা, হালিশহর ও বান্দরবান সেল; সিলেটের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সেল; রাজশাহীর নওহাঁটা ও বোধিপুর সেল; খুলনা ও যশোর শাখা এবং খালিশপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও লোহাগাড়া সেলেও অনুষ্ঠিত হয়েছে খতনা কার্যক্রম।