কোয়ান্টাম মেথড শতভাগ ধর্মসম্মত, বিজ্ঞানসম্মত

কোয়ান্টাম মেথড শতভাগ ধর্মসম্মত, বিজ্ঞানসম্মত
আমাদের যত রোগ তার শতকরা ৭৫ ভাগই মনোদৈহিক। তাই অনেক সময় শুধুমাত্র ওষুধ দিলেই রোগী ভালো হয় না। আমার ধারণা, রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি হলো আস্থা। কোয়ান্টাম কোর্সে আপনারা যে ৪০ ঘণ্টা ধরে গুরুজীর কথা শুনছেন এবং অনেকেই নানারকম রোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন- এর মূলে রয়েছে গুরুজী ও কোয়ান্টামের প্রতি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস। আর এ বিশ্বাসই মানুষকে নিরাময় করে ও ইতিবাচক শক্তিতে পুনরুজ্জীবিত করে।
শেখার কোনো শেষ নেই, শেখার কোনো বয়স নেই। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একজন মানুষ শিখতে পারে। তাই এ কোর্সের ৩২৮ তম ব্যাচে আপনাদের মাঝে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। হল ভর্তি এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে টানা ৪ দিন শুধুমাত্র কথার মাধ্যমে গুরুজী কী চমৎকারভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলেন- এটি সত্যিই আমার খুব অবাক লাগছে।
একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আমার বিশ্বাস- আল্লাহ, রসুল এবং অন্যান্য সকল ধর্মে মানবকল্যাণের যে কথা বলা হয়েছে, তাতে বর্তমানকালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পথ রয়েছে। এ কারণেই কোয়ান্টাম কোর্সে গুরুজীর আলোচিত কথাগুলো, যেমন- ‘শোকর আলহামদুলিল্লাহ’ বলার গুরুত্ব, আল্লাহ ও রসুলের কথা এবং প্রত্যেক ধর্মের মানবপ্রেমের বাণী আমাকে খুব মোহিত করেছে। আমি মনে করি, এটি শতভাগ ধর্মসম্মত।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানুষ বলে আমি জানি, আমাদের মস্তিষ্কে যে লক্ষ কোটি নিউরোন রয়েছে, তার অনেকাংশই আমরা ব্যবহার করি না; কিন্তু এগুলোকে কীভাবে উজ্জীবিত করতে হয়, কাজে লাগাতে হয়- গুরুজী তা চমৎকার বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনায় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। তাই আমি বলবো, সব ধরনের নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত হয়ে একজন ইতিবাচক মানুষ হয়ে ওঠার দিক-নির্দেশনা রয়েছে কোয়ান্টামে। আমি বিশ্বাস করি, এ কোর্স আবহমান কাল ধরে চলতে থাকবে এবং আরো অগণিত মানুষ কোয়ান্টামের মাধ্যমে উপকৃত ও সমৃদ্ধ হবে।
কিছুদিন আগে আমাদের সুযোগ হয়েছিলো লামার শিশুকানন দেখার। সেখানে শিশুদের সাথে আমি গল্প করেছি, সুন্দর সময় কাটিয়েছি। এত সুন্দর আর প্রাণবন্ত একেকটি ফুটফুটে শিশু।
গুরুজী, মা-জী এবং কোয়ান্টামের সবাই তাদের ভালবেসে আপন করে নিয়েছেন নিজেদের সন্তানের মতো।
এ শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা আমাদের যাকাতের একটি অংশ এখানে দিতে পারি, মাটির ব্যাংকে নিয়মিত দান করতে পারি। কারণ, যিনি ভালো কাজ করছেন তার কাজে সাহায্য করলে মানুষ উপকৃত হবে। আর ভালো কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমরা সবাই সওয়াবের অংশীদার হতে পারি। ইতোমধ্যেই লামায় শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।
'শোকর আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘বদলে গেছে লাখো জীবন'- কোয়ান্টামের এই দুটো কথা আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। টানা ৪ দিন ধরে গুরুজী আসলে আমাদেরকে এটিই বোঝাতে চেয়েছেন এবং সফলভাবে সবার মধ্যে তা সঞ্চারিত করতে পেরেছেন।
কোয়ান্টাম মেথড চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিপূরক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের নিরাময় এবং কল্যাণ তবে বলবো কোয়ান্টাম ঠিক একই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান