কোয়ান্টাম মেথড রিয়েলাইজেশন কোর্স

আমরা সুপারম্যান, ইনসানে কামেল বা অনন্য মানুষ হতে চাই। আমরা দুঃখকে আনন্দে রোগকে সুস্থতায় অভাবকে প্রাচুর্যে রূপান্তরিত করতে চাই। কিন্তু সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায় প্রাকৃতিক নিয়মে কীভাবে আনন্দের প্লাবন সৃষ্টি করা যায়, কীভাবে জীবনকে প্রাচুর্যে ভরিয়ে দেয়া যায় তা আমরা জানি না।

আমরা স্রষ্টায় সমর্পিত হতে চাই, ইবাদত-বন্দেগী করতে চাই, উপাসনা-আরাধনা করতে চাই, কিন্তু তা না করে কোথায় যে হারিয়ে যাই নিজেও জানি না। আমরা ক্বালবে জিকির জারি করতে চাই, হৃদয়ে কান পেতে মহানাম শুনতে চাই কিন্তু জিকির জারি হয় না। হৃদয়েও মহানাম শুনি না।

অথচ আমাদের অলি-বুজুর্গ-মুনি-ঋষিরা সুপারম্যান, ইনসানে কামেল বা অনন্য মানুষ ছিলেন। তাঁরা ছিলেন বিষাদমুক্ত সদানন্দ। তাঁদের কাছে মানুষ দুঃখ-কষ্ট নিয়ে গেছে, কষ্ট দূর করার পথ পেয়েছে; অভাব নিয়ে গেছে, প্রাচুর্যের সন্ধান পেয়েছে; রোগ নিয়ে গেছে সুস্বাস্থ্যের পথ পেয়েছে। ব্যথা-বেদনা নিয়ে গেছে- তিনি হয়তো মাথায় স্পর্শ করেছেন- ব্যথা-বেদনা দূর হয়ে গেছে।

বুজুর্গ-ঋষিরা যে সুপারম্যানের শক্তি অর্জন করেছিলেন নিঃসন্দেহে তা অর্জিত হয়েছিলো সাধনার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়। সে প্রক্রিয়ায় সমর্পিত হয়ে তাঁরা প্রতিটি সেজদাকে পরিণত করেছেন মেরাজে। স্রষ্টাকে তাঁরা অনুভব করেছেন নিজেরই অস্তিত্বের গভীরে।

আপনিও বুজুর্গ-ঋষিদের এ পথে অগ্রসর হতে পারেন। আপনিও অর্জন করতে পারেন তাঁদের মতো নিরাময় ক্ষমতা, তাঁদের মতো অন্তর্দৃষ্টি ও অতীন্দ্রিয় শক্তি। আপনার সেজদাও পরিণত হতে পারে মেরাজে।  আপনিও স্রষ্টাকে অনুভব করতে পারেন আপনার  অস্তিত্বের গভীরে। এ জন্যে ঘর-সংসার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু করেও নিয়মিত কিছু অনুশীলন বা আমল আপনাকেও পৌঁছে দিতে পারে সুপারম্যান বা অনন্য মানুষের সোপানে।

কোয়ান্টাম মেথড উচ্চতর মেডিটেশন কোর্সে (যা মাস্টার্স বা রিয়েলাইজেশন কোর্স নামে পরিচিত) আপনার সামনে এই বিশাল অতীন্দ্রিয় সম্ভাবনার দ্বারই উন্মোচিত হবে।

কোর্সে উপলব্ধির বিশেষ মাত্রা

  • নিজের অন্তর্গত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও নিঃসঙ্গতার কারণ উদ্‌ঘাটন ও তা দূরীকরণ : নিজেকে স্রষ্টায় সমর্পণের মাধ্যমে প্রশান্ত প্রত্যয় সৃষ্টি। বিষাদমুক্ত সদানন্দ আলোকিত জীবনের চাবিকাঠি লাভ।
  • ক্বাল্‌ব বা হৃদয়ে জিকির বা মহানাম জারি।
  • চেতনার পঞ্চম মাত্রার উন্মোচন : কোয়ান্টাম চেতনা মণ্ডল (আরবীতে যা ‘আলমে লোকমানি’ এবং যোগ সাধনায় ‘কুণ্ডলিনী’ শক্তি নামে পরিচিত) জাগ্রত করে অতিচেতনাকে চেতনার পঞ্চম মাত্রা অনন্ত চেতনায় উন্নীতকরণ।
  • অঙ্গীকার, বায়াত বা দীক্ষার মাধ্যমে আত্মিক শক্তির ধারা পরম্পরার সাথে সংযুক্তি স্থাপন।
  • কোয়ান্টাম ফিল্ড এনার্জি- সংক্ষেপে ‘কোয়ানফি’ (যা কসমিক এনার্জি, কুয়াতুশ শেফা, প্রাণশক্তি, কি গং, তাইকি, রেইকি ইত্যাদি নামে পরিচিত) প্রয়োগ করে অন্যকে নিরাময় করার প্রক্রিয়া আয়ত্ত করা।
  • স্পর্শ নিরাময় প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কপালে বা অসুস্থ স্থানে হাত রেখে ব্যথা-বেদনার তাৎক্ষণিক উপশম করা।
  • সঠিক ও পরিপূর্ণ জীবনদৃষ্টি লাভ।

প্রিয় গ্রাজুয়েট,
আপনি নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। সাধনার সহজ পথ এখন আপনার দ্বারপ্রান্তে।  উচ্চতর কোর্সে অংশগ্রহণ করে কিছু নিয়মিত অনুশীলন বা আমলের মাধ্যমে আপনি হয়ে উঠবেন বিষাদমুক্ত সদানন্দ জীবনের অধিকারী। সংগ্রহ করবেন মহাজাগতিক সফরের পরবর্তী যাত্রার পাথেয়।

রিয়েলাইজেশন কোর্সে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি

  • কোয়ান্টাম মেথড ফাউন্ডেশন কোর্স দুই বার রিপিট।
  • কোয়ান্টায়ন বা মৌন সাধনা তিন প্রস্থ।
  • কোয়ান্টাম হিলিং ও সাইকি কোর্স, প্রথমায়ন কোর্স, (প্রযোজ্য হলে) কোয়ান্টাম শিক্ষার্থী কোর্সে অংশগ্রহণ।
  • কোয়ান্টাম ব্যায়াম অনুশীলন।
  • কোয়ান্টাম হিলিং-এ অংশগ্রহণ।
  • সাদাকায়ন/আলোকায়ন ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ।
  • গ্রাজুয়েট প্রজ্ঞায়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ।
  • ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত দুই বেলা মেডিটেশন।
  • মাটির ব্যাংক-এ দান।

[উচ্চতর মেডিটেশন কোর্সের শিক্ষাকে জানার সাথে সাথে উপলব্ধির পূর্ণতায় অনুভবের জন্যে এ প্রস্তুতিগুলো প্রয়োজন। বুজুর্গ-ঋষিদের সাধনার এ পথে প্রস্তুতি সবসময়ই সহায়ক।]

উচ্চতর কোর্সে অংশগ্রহণের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার পর নির্ধারিত ফর্মে কোর্সে অংশগ্রহণের আবেদন জমা দিতে হয়। ক্লাস শুরু হওয়ার এক মাস পূর্বে আবেদনপত্র বাছাই করা হয়। গুরুজীর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রার্থীকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হয়। চার দিনে ৪০ ঘণ্টায় কোর্স সম্পন্ন করা হয়।

প্রিয় গ্রাজুয়েট, আপনি জানেন, আপনি কসমিক ট্রাভেলার, মহাজাগতিক মুসাফির। পৃথিবীর এই ভ্রমণ শেষে শুরু হবে আপনার নতুন সফর। মহাজাগতিক সফরের প্রতিটি স্তর আপনার জন্যে হয়ে উঠুক আনন্দময়।

Site's Category: