কারাবন্দীদের আলোকিত জীবন দানে মেডিটেশন

বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই কারাবন্দীদের মেডিটেশন শেখানো হচ্ছে।গবেষণায় দেখা গেছে কারাবন্দীদের আচরণ এতে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাদের অপরাধপ্রবণতা কমছে, এমনকি অনেকাংশেই সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে তাদের পেছনের পঙ্কিল জীবনে আর ফিরে না যাবার।
কারাবন্দীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে আহবান জানায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মেডিটেশন কার্যক্রম শুরু করার জন্যে। ২০১০ সালর ৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। আরো উপস্থিত ছিলেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার(অব.) আশরাফুল ইসলাম খান।
নতুন দৃষ্টিভঙ্গি :
কারাবন্দীদের আলোকিত স্বাভাবিক জীবনের পথে এগিয়ে নিতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ১০ দিনের একটি কোর্স শুরু করেছে। প্রতিদিন ২ঘন্টাব্যাপি এই ক্লাসে থাকছে সঠিক জীবনদৃষ্টি সম্পর্কিত আলোচনা, মেডিটেশন এবং কোয়ান্টাম ব্যায়াম।
*কারাবন্দীদের বিশ্বাসে উজ্জীবিত করা হয যে একজন মানুষ যেকোন অবস্থান থেকে শুরু করতে পারে। মানুষই পারে ব্যর্থতার ছাই থেকে সাফল্যের প্রাসাদ গড়তে। সেইসাথে এই বন্দী সময়টুকু হতে পারে তার সফল জীবনের পাথেয়।
*পারষ্পারিক সহিংসতা এবং অবিশ্বাস ঝেড়ে ফেলে কারাবন্দীদের মাঝে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করা হয়।
*মেডিটেশন, আলোচনা, মন খুলে কান্না-হাসির পর্ব বন্দীদের সহায়তা করে ভেতরের জমে থাকা দুঃখ-গ্লানি-রাগ-ক্ষোভ থেকে মুক্ত হতে।
*মেডিটেশন তাদের আত্মগ্লানি তেকে মুক্ত করে এবং গড়ে তোলে ক্ষমার মানসিকতা
*আত্মনিরাময় পর্ব তাদের সুস্বাস্থ্য এবং সদাচরণের পথকে উন্মুক্ত করে দেয়।
*বিশেষ দমচর্চা কারাবন্দীদের দেয় শারীরিক মানসিক ভারসাম্য।
*সার্বিকভাবে এই কোর্স তাদের মনের গভীরর অদেখা ক্ষতগুলোকে সারিয়ে তোলে এবং বিশ্বাস যোগায় স্বাভাবিক সুন্দর জীবন গড়ার পথে অগ্রসর হতে।
এই ১০দিনের কের্স সম্পন্ন করা পর কারাবন্দীরা নিয়মিত মেডিটেশন চর্চার সুয়োগ পায় এবং অনুমুতি সাপেক্ষে যে কেউ আবারো কোর্স রিপিট করতে পারে।
প্রত্যাশিত আগামী :
২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত পুরুষ কারাবন্দীদের ৫টি ব্যাচে এবং মহিলা কারাবন্দীদের ১টি ব্যাচে এই কোর্স সম্পন্ন হয়েছে। কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন যা আমাদের অনেকাংশেই উদ্বুদ্ধ করছে আরো সুসংহত হয়ে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে। এই সকল কারাবন্দীদের অনেকেই অংশ নিচ্ছ বিভিন্ন রকম ভকেশনাল ট্রেনিং কোর্সে যা তাদের স্বাভাবিক জীবনে কাযর্করী হবে। আবার অনেকেই সাগ্রহে অংশ নিচ্ছে মেডিটেশনের পরবর্তী ব্যাচে।