আমি এখন অনেক প্রো-একটিভ ও সাহসী

Question: 

আমি এখন অনেক প্রো-একটিভ ও সাহসী। এখন আমি যদি কোনো সন্ত্রাসীকে পাই, তাহলে কি প্রো-একটিভ থেকে চুপ থাকবো, না মারবো? অত্যাচারিতের প্রতি আমার খুবই সহানুভূতি। সন্ত্রাসীকে মিষ্টি কথা বললে উল্টো আমি মার খেতে পারি। তাই প্রথম সুযোগেই আঘাত করা উচিত। কী করবো?

Answer: 

প্রো-একটিভ কথাটার অর্থ হচ্ছে, যেকোনো অবস্থায় সে অবস্থার প্রেক্ষিতে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নেয়া। সর্বোত্তম করণীয় ঠিক করা। অত্যাচারিতের প্রতি আপনার সহানুভূতি প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রস্ত্ততি ছাড়া বা ঠেকানোর সামর্থ্য ছাড়া আপনি যখন একজন সন্ত্রাসীকে প্রত্যাঘাত করতে যাবেন, আপনি তখন ভুল করবেন। কারণ এতে আপনিও শিকার হবেন একই পরিণতির। হয়তো দেখা যাবে আপনি শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। তাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, প্রতিকারের সমাধানে যেতে হবে। কারণ প্রতিবাদ হলো দুর্বলের কাজ। কিন্তু প্রতিকার করতে হলে শক্তি সঞ্চয় করতে হয়, প্রস্ত্ততি নিতে হয়।
ধরুন ছিনতাই হচ্ছে, আপনারা ২ জন বা ৩ জন ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে পারেন। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু ছিনতাই হচ্ছে এবং ছিনতাইকারী ১১ জন, আর আপনি একা। এ অবস্থায় আপনি আবেগের বশে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সেটা প্রো-একটিভ কোনো সিদ্ধান্ত হবে না। কারণ আবেগ নয়, প্রো-একটিভ সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক বিচার-বুদ্ধিটাই বেশি প্রযোজ্য।
আসলে জীবনে কখনো কখনো আপাতদৃষ্টিতে পশ্চাদপসরণের দরকার হয়। রণনীতির ভাষায় যাকে বলে ‘কৌশলগত পশ্চাদপসারণ’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানবাহিনীর হাতে ইংরেজরা এমন মার খেলো যে, ফ্রান্স বিজয়ের পর জার্মানরা যখন ইংলিশ চ্যানেলের দিকে অগ্রসর হলো তখন ইংরেজ বাহিনীর দু’লক্ষ সৈন্য পেছনে হটে যেতে বাধ্য হলো। সবাই ধরে নিলো ইংরেজ বাহিনী পালিয়েছে। কিন্তু এই পশ্চাদপসরণকৃত প্রশিক্ষিত সৈন্যরাই ৪ বছর পর আরো সংগঠিত হয়ে জার্মানি আক্রমণ করলো এবং বার্লিনে নিজেদের পতাকা ওড়ালো। কাজেই হঠকারিতা নয়, আবেগবশত লাফালাফি নয়, আসলেই আপনি কতটা পারবেন সেটা ভেবে নিয়ে অন্যায়ের প্রতিকার করতে হবে, প্রতিবাদ নয়।