আমার সীমাবদ্ধতাই আমার শক্তি

আলোকায়ন কার্যক্রম
২৪ জানুয়ারি, ২০১২

মানব সভ্যতার ইতিহাস পুরোটাই সীমাবদ্ধতাকে জয় করার ইতিহাস। শুয়ো পোকা যেমন কালের ফেরে প্রজাপতিতে রূপ নেয়। মানুষও সীমাবদ্ধতাকে তেমনি শক্তিতে পরিণত করেছে। মানুষ দেখলো যে গাধা বা উটের মতো সে মাল বহন করতে পারবে না। কি করা যায়। আবিষ্কৃত হলো ট্রেন। হাজার হাজার মন মাল আনা নেয়া হচ্ছে। ম্যাগলেভ ট্রেন ঘণ্টায় ৩৮০ কি. মি. ছুটতে পারে। চিতা বাঘ ক্লান্ত হয়ে পড়বে কিন্তু এই ট্রেন ছুটতে থাকবে। মানুষ দেখলো, তার ডানা নেই, পাখির মতো যা দিয়ে সে উড়তে পারে। অবশেষে ১৯০৫ সালে রাইটভাতৃদ্বয় উড়োজাহাজ আবিষ্কার করলো।
আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে জাপানের তৎকালীন শাসক আদেশ জারি করলেন যে, ওকিনাওয়া দ্বীপের বাসিন্দারা সাথে করে অস্ত্র বহন করতে পারবে না। অস্ত্র ছাড়া কীভাবে হাত পা দিয়ে আত্মরক্ষা করা যায় তার প্রচেষ্টা শুরু করলো দ্বীপের অধিবাসীরা। ব্যস, জনম নিলো অস্ত্র ব্যতীত আত্মরক্ষার অভিনব কৌশল কারাতে।
পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ আমরা কেউই পরিপূর্ণভাবে নিঁখুত নই। কালের ইতিহাসে যারা আপন জাতি, দেশ এবং সারা বিশবকে আলোকিত করেছেন তাদেরও সীমাবদ্ধতা ছিলো। সেইসব প্রতিকূলতাকে জয় করে, সীমাবদ্ধতার কাঁটাকে সম্ভাবনার শিরোপায় রূপান্তর করার মাধ্যমেই তারা স্মরণীয় বরণীয় হয়েছেন।
সীমাবদ্ধতা শারীরিক হতে পারে। গ্রীক নাট্যকার হোমার জন্মান্ধ ছিলেন। এটি তার খ্যাতিমান হওয়ার পথে অন্তরায় হয় নি। তার বিখ্যাত নাটক ইলিয়ট হাজার বছর ধরে নাট্যস্থ হচ্ছে। বিখ্যাত ব্যালে নর্তকী আলেকজান্দ্রা ৮ বছর বয়সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে যান। দীর্ঘ সাধনার পরে তিনি এই পঙ্গুত্বকে জয় করে ব্যালে নর্তকী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
মহীয়সী রমনী হেলেন কেলার বলেছিলেন, যখন সুখের একটি দুয়ার বন্ধ হয়ে যায় তখন আরেকটি খুলে যায়। সমস্যা হলো যে আমরা বন্ধ দুয়ারের দিকে এত দীর্ঘসময় তাকিয়ে থাকি যে খোলা দুয়ার চোখেই পড়ে না। যারা বন্ধ দুয়ারের নিয়ে হাপিত্যেশ না করে সম্ভাবনাপূর্ণ খোলা দুয়ারের পথিক সাফল্য তাদেরই।
এ রূপান্তর কীভাবে? :
প্রথমত : আমাদেরকে নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অর্থাৎ জানতে হবে আমার সামর্থ্য কতটুকু, আমি কী কী করতে পারি। সীমাবদ্ধতা না জানলে তার প্রতিকার করা সম্ভব নয়।
দ্বিতীয়ত : যে ধরনের সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন তাকে আমাদের ইতিবাচকভাবে নিতে হবে।
তৃতীয়ত : সে সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে তা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। অর্থাৎ আমার যা আছে তা দিয়েই শুরু করতে হবে।
চতুর্থত : তারপর ধীরে ধীরে সামর্থ্যের সীমানা বাড়াতে হবে। কেউই কখনো এক লাফে সিঁড়ির ওপরের ধাপে উঠতে পারে না। অগ্রসর হতে হবে ধাপে ধাপে।
সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করবেন কিভাবে :
পৃথিবীর যা কিছু দেখে আপনি বিস্মিত হন তা সবই মানুষের মস্তিষ্কেরই উদ্ভাবনের ফসল। আর মহাবিশ্বের বড় বিস্ময় ব্রেন, আপনার পুঁজি। বিশ্বের সুপার কম্পিউটার ক্রে-১ প্রতি সেকেন্ডে ৪ শত মিলিয়ন ক্যালকুলেশন করতে পারে, মস্তিষ্ক পারে ২০ হাজার বিলিয়ন। ক্রে-১ কম্পিউটার একশত বছর কাজ করলে মস্তিষ্কের মাত্র ১ মিনিটের কার্যক্ষমতার সমান হবে। বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্ক নিয়ে যত গবেষণা করছেন ততই অনুভব করতে পারছেন, বিশাল সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে তীরে ধেয়ে আসা ঢেউ কেবল তারা গুনছেন। আমাদের এমন পুঁজি রয়েছে যার সঠিক মূল্য আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী নির্ধারণ করতে পারেন নি। এত বড় সম্পদের মালিক হয়েও কেউ যদি নিজেকে নিঃস্ব বা রিক্ত ভাবেন তাহলে এর জন্যে দায়ী সে নিজেই।
৫০০০ কোটি টাকা দামের এই সুপার কম্পিউটার সুন্দরভাবে ব্যবহারের জন্যে প্রয়োজন নিয়মিত মেডিটেশন । আপনি যখন নিয়মিত মেডিটেশন করবেন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন প্রভু আপনাকে কী কী মেধা দিয়েছেন, সেগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে তার পরিকল্পনা করতে পারবেন। নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং ঠান্ডা মাথায় তাকে কাজে লাগাতে পারবেন। দেখবেন সে অমিত সম্ভাবনা আপনার মধ্যে আছে তা আপনাকে সাফল্য লাভের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।